শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
24 C
Jessore
More

    ট্রাম্পের শুল্কনীতি বেআইনি! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে কাঁপছে আমেরিকা

    আমেরিকার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা কোথায়—এই প্রশ্নে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, জাতীয় জরুরি অবস্থার অজুহাত দেখিয়ে একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বিশাল শুল্ক বসানো যায় না। এভাবে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

    এই রায় শুধু একটি অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। এটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমেরিকার ঘাটতি কমাতে এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কঠোর শুল্কনীতি চালু করেন। তিনি ১৯৭৭ সালের আইন—ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট বা IEEPA—ব্যবহার করে জাতীয় জরুরি অবস্থার যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি ছিল, বিদেশি পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ আমেরিকার অর্থনীতির জন্য হুমকি।

    কিন্তু প্রশ্ন উঠল, এই আইনের আওতায় কি প্রেসিডেন্ট একাই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? সংবিধান অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি ও কর-শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে। সেই জায়গাতেই আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

    প্রধান বিচারপতি John Roberts-এর নেতৃত্বে নয় বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে রায় দেয়। আদালত জানায়, IEEPA প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেয় না, যার মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একতরফাভাবে আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারেন।

    আরও পড়ুন :  ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশে গণঅভ্যুত্থান: শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে পালাবদলের ইতিহাস

    আদালত পরিষ্কার করে বলেছে, কোন দেশ থেকে কোন পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক বসবে—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের। প্রেসিডেন্ট জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, কিন্তু তা সীমাহীন নয়।

    সহজভাবে ভাবলে বিষয়টা এমন—আপনি যদি একটি পরিবারের খরচ চালানোর দায়িত্ব পান, তাহলে হঠাৎ করে সবার সঙ্গে আলোচনা না করে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে ফেলতে পারেন না। একইভাবে, দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হলে কংগ্রেসকে পাশ কাটানো যায় না।

    Donald Trump-এর প্রশাসন এই শুল্কনীতির মাধ্যমে আগামী দশ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, IEEPA-এর আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় হয়েছে।

    এখন আদালতের রায়ের পর সেই অর্থের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হতে পারে। ফলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে—এটা প্রায় নিশ্চিত।

    এই রায় শুধু আমেরিকার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির একটি। তাদের শুল্কনীতি বদলালে বৈশ্বিক বাণিজ্য ভারসাম্যে নড়াচড়া শুরু হয়।

    আরও পড়ুন :  হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্য: জামায়াতে ইসলামী ‘একটি চিতাবাঘ, যার দাগ বদলায় না’

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা বরাবরই উচ্চ শুল্কের বিরোধী। আদালতের রায়কে তারা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে।

    এই রায়ের বড় দিক হলো—এটি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোতে তিনটি প্রধান স্তম্ভ আছে—প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস এবং বিচার বিভাগ। কেউ এককভাবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন।

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট দেখিয়ে দিল, অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক নিয়ম মানতেই হবে। জরুরি অবস্থা থাকলেও সেটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করা যাবে না।

    এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টদের জন্যও এক ধরনের সতর্কবার্তা। অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বা কঠোর বাণিজ্যনীতি নিতে চাইলে আইনগত ভিত্তি শক্ত হতে হবে।

    যেসব ব্যবসায়ী অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন, তারা এই রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন। অনেক আমদানিকারক বলছেন, হঠাৎ শুল্ক বৃদ্ধি তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এলোমেলো করে দেয়। কাঁচামালের দাম বাড়ে, উৎপাদন খরচ বাড়ে, শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপ পড়ে।

    এখন যদি সরকারকে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়, তাহলে তা প্রশাসনের জন্য বড় আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। প্রতিটি দাবি যাচাই করা, হিসাব মিলানো—সবই সময়সাপেক্ষ।

    আরও পড়ুন :  গুহায় পাওয়া পাথরের টুকরো বদলে দিচ্ছে আদিম মানুষ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা

    এই রায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও আলোচনা তুঙ্গে। বিরোধী শিবির বলছে, এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর জয়। অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থীরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক কৌশলে বাধা দেওয়া হয়েছে।

    তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তারা রাজনৈতিক নয়—সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন যেটা বলেছে, রায়ও সেটাই মেনে দিয়েছে।

    এখন প্রশ্ন, এরপর কী? কংগ্রেস চাইলে নতুন আইন প্রণয়ন করে প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট পরিসরে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিতে পারে। আবার প্রশাসন বিকল্প আইনি পথও খুঁজতে পারে।

    কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার—একক সিদ্ধান্তে বিশাল আন্তর্জাতিক শুল্ক আরোপের পথ আপাতত বন্ধ। অর্থাৎ বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি দেখিয়ে দিল, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় ক্ষমতা কখনও এক হাতে কেন্দ্রীভূত হয় না।

    জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক কৌশল—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান ও আইনের শাসন। সুপ্রিম কোর্ট সেই বার্তাই আবার মনে করিয়ে দিল।

    এখন সবার নজর কংগ্রেস ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ এই সিদ্ধান্ত শুধু অতীতের নীতি নিয়ে নয়—ভবিষ্যতের বাণিজ্য কৌশলও অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে।

    লেটেস্ট আপডেট

    বিশ্বকাপের মাঝেই ভাইরাল ঈশানের নাচ! সতীর্থর বোনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত?

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে...

    মাত্র ৮ মিনিটের রাগেই হার্ট অ্যাটাক! কী বলছে নতুন গবেষণা?

    রাগ তো আমাদের সবারই হয়। অফিসে বস কিছু বললেন,...

    বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ: এলডিসি উত্তরণ পেছানোর নেপথ্য কারণ

    বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন...

    একুশের চেতনায় বিশ্বকে শুভেচ্ছা: ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বক্তব্য

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে...

    বাছাই সংবাদ

    বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ: এলডিসি উত্তরণ পেছানোর নেপথ্য কারণ

    বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন...

    একুশের চেতনায় বিশ্বকে শুভেচ্ছা: ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বক্তব্য

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে...

    যশোরে পিকআপের চাপায় শ্রমিক নিহত, মোটরসাইকেল-ট্রলি সংঘর্ষে আরও মৃত্যু

    যশোরের মণিরামপুর উপজেলা ও কেশবপুর উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায়...

    বিদ্যুৎ ঘাটতির মাঝেও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি: যশোরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

    বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুূৎ সরবরাহের চেষ্টা করছে সরকার...

    প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ঘিরে জনতার ভালোবাসার ঢল

    জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম...

    নিম্নচাপের দাপট! হাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা, বৃষ্টি কবে কোথায়?

    শীতের আমেজ এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। ভোরবেলা বাইরে বেরোলেই...

    চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী! প্রটোকল কমিয়ে নতুন বার্তা তারেক রহমানের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই নতুন...

    ক্ষমতা বদলের পর বড় প্রশ্ন: যমুনা ছাড়ছেন ইউনূস, কবে উঠবেন তারেক রহমান?

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি...

    এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

    জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

    Translate »