ভুয়া চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে
সম্প্রতি জুলাই সনদ ঘিরে পুলিশের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই চিঠিটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে—চিঠিটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।
পুলিশের বিবৃতি: ভুয়া চিঠি চিহ্নিত
শনিবার (২ আগস্ট) রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে, সম্প্রতি পুলিশের লেটারহেড ব্যবহার করে ইন্টারনেটে ছড়ানো চিঠিটি কোনোভাবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়নি। চিঠিতে পুলিশের নীতিমালার বাইরে গিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যা পুরোপুরি অনৈতিক ও মনগড়া।
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
পুলিশ সদর দপ্তর যে তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট করেছে তা হলো—
১। চিঠিটি বাংলাদেশের কোনো পুলিশ ইউনিট বা দপ্তর থেকে প্রকাশিত হয়নি।
২। চিঠিতে যে বক্তব্য লেখা হয়েছে তা বানোয়াট, মিথ্যা এবং পুলিশের নীতি ও আচরণবিধির সাথে সাংঘর্ষিক।
৩। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী হিসেবে যে কর্মকর্তার নাম রয়েছে, তিনি আদৌ উল্লিখিত শাখায় কর্মরত নন।
ভুয়া চিঠি ছড়ালে শাস্তি
পুলিশ সদর দপ্তর কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, এমন ভুয়া চিঠি তৈরি, প্রচার বা শেয়ারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্তক থাকার আহ্বান
এ ধরনের গুজব প্রতিরোধে পুলিশ সদর দপ্তর নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতন ও সর্তক থাকতে অনুরোধ করেছে। কোনো প্রকার অফিসিয়াল চিঠি বা সংবাদ যাচাই না করে শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপসংহার
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর, গুজব বা বানোয়াট চিঠি ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবারের জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে ছড়ানো ভুয়া চিঠি নতুন করে প্রমাণ করলো, বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট—গুজব রটনা ও মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সকলেরই উচিত, যেকোনো তথ্য যাচাই করে শেয়ার করা।
সতর্ক থাকুন, গুজব রুখুন।


