অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকেই
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য ছ’মাস আগেই তাদের ওপেনিং জুটি চূড়ান্ত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেই এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে। দলের অধিনায়ক মিচেল মার্শ জানিয়েছেন, আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত একই ওপেনিং জুটি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্শের ভাষায়, “আমি আর ট্রেভিস হেড ইনিংস শুরু করব। আমরা দু’জন একসঙ্গে অনেক ক্রিকেট খেলেছি এবং একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝি। আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়াই ইনিংসের শুরুতে শক্তি জোগাবে।”
বাঁহাতি-ডানহাতি জুটির কৌশলগত সুবিধা
মার্শ-হেড জুটি ইনিংসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে দেবে বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাটিং জুটির অতিরিক্ত সুবিধা। যদিও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তারা এখনও ওপেন করেননি, তবে একদিনের ক্রিকেটে তাদের পার্টনারশিপের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একদিনের ম্যাচে তারা পাঁচবার ওপেন করে তুলেছেন ২৮২ রান, গড় ৭০.৫০। মোট ১৪টি পার্টনারশিপে রান ৫০৪, যার মধ্যে রয়েছে একটি শতরান এবং তিনটি অর্ধশতরান।
ডেভিড ওয়ার্নারের অবসরের পর নতুন সূচনা
অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং লাইনআপে এই পরিবর্তন এসেছে কিংবদন্তি ডেভিড ওয়ার্নারের অবসরের পর। এতদিন তিন নম্বরে ব্যাট করা মিচেল মার্শ এখন ওপেনিংয়ে নামবেন। তার জায়গায় এক নম্বর বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ককে, এছাড়াও টিম ডেভিড রয়েছেন নির্বাচকদের নজরে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ডেভিডকে উপরের দিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সফল হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতাই নির্বাচকদের এই পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। মার্শ মনে করেন, ডেভিডের মতো পাওয়ার হিটারকে বেশি বল খেলার সুযোগ দিলে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
বিশ্বকাপের পথে নির্দিষ্ট রোডম্যাপ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারিতে, এবং অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী এগোচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে শুরু করে বড় কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে মার্শ-হেড জুটি অপরিবর্তিত থাকবে।
অধিনায়কের মতে, স্থিতিশীল ওপেনিং জুটি থাকলে দলের কৌশলগত পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়। আর বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি অপরিহার্য।
উপসংহার
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে ডেভিড ওয়ার্নার যুগের পর নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। মিচেল মার্শ এবং ট্রেভিস হেডের এই নতুন ওপেনিং জুটি কি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলকে গৌরব এনে দেবে? সময়ই বলবে, তবে পরিকল্পনার দৃঢ়তা এবং খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা দেখে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই ট্রফির লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে।


