ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় সেনাবাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সামুরাই ছুরি, চাপাতি ও অন্যান্য বিপজ্জনক অস্ত্র মিলে উদ্ধারকৃত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১০০টি। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এসব অস্ত্র দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু নিউ মার্কেট
সম্প্রতি রাজধানীতে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার পেছনে এসব ধারালো অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ আর্মি ক্যাম্প জানায়, এর আগেও গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সামুরাই ছুরি ও অনুরূপ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল, যা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।
চলতি মাসে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা জানতে পারেন—রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু দোকান থেকে এসব সামুরাই অস্ত্র ভাড়া বা বিক্রি করা হচ্ছিল সন্ত্রাসীদের কাছে। পরে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সন্ত্রাসীও জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য নিশ্চিত করে।
দুই দিনের টানা অভিযান ও বিপুল উদ্ধার
গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত দুই দিন ধরে নিউ মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। এতে একাধিক দোকান ও গুদামে দেশীয় ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়, যেগুলোর কোনো গৃহস্থালি বা বৈধ ব্যবহার নেই।
তদন্তে জানা যায়, গত কয়েক মাসে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত হয়েছে একাধিক খুন, আহতের ঘটনা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই। এসব অস্ত্র উদ্ধারের পর সেগুলো গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তারা অস্ত্রের উৎস, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের অপরাধীদের সঙ্গে কোনো যোগসাজশ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে।
ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্কবার্তা
সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকল ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়েছে—এ ধরনের বিপজ্জনক ধারালো অস্ত্র বিক্রি থেকে বিরত থাকতে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—কিশোর গ্যাং ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা রোধে সহায়তা করতে। আশপাশে সন্দেহজনক কোনো অস্ত্র বিক্রয় বা মজুদের খবর পেলে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা পুলিশের কাছে দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার
সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা সর্বদা প্রস্তুত। কোনো দুষ্কৃতিকারী যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সেনারা দিন-রাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।


