বাংলাদেশের আবহাওয়ায় নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আটটি বিভাগেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী—রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে দু’একটি স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। তবে আগামীকাল থেকে গরমের তীব্রতা কমে আসতে পারে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কৃষি, মাছ চাষ এবং দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশে বর্ষাকালীন সময়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ সাধারণত অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। লঘুচাপের কেন্দ্র থেকে সৃষ্ট আর্দ্রতা ও বায়ুর গতি উপকূলীয় এলাকা থেকে ভেতরের জেলাগুলো পর্যন্ত বৃষ্টির জাল বিস্তার করে।
- উপকূলীয় এলাকায় নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বর্ষণপ্রবণ এলাকায় জলাবদ্ধতা এড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।কৃষকদের বৃষ্টিপাতের সময় ফসলের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ আগামী কয়েকদিন দেশের আবহাওয়ার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এই সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, দক্ষিণাঞ্চলেও হালকা বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে।
এভাবে আগামী পাঁচ দিন ধরে আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে, যা বর্ষাকালের স্বাভাবিক আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


