যশোরের নওয়াপাড়ায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বুকসমান বালুর নিচে পুঁতে রেখে ৪ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযুক্ত সাবেক বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান জনির পরিবার দাবি করেছে—এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জনির বোন মানজারমিন ইলোরা এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দেন। তিনি জানান, অভিযোগকারী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপু আসলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৭০ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গম সরবরাহের নামে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মানজারমিন ইলোরার বক্তব্যে উঠে আসে, নওয়াপাড়া ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ী টিপুর নামে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা গত ১৩ জানুয়ারি নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সমিতির আট দফা মিটিংয়ে টিপু তার পাওনাদারদের নাম ও পাওনার পরিমাণ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্যাডে স্বীকারও করেন।
তিনি আরও বলেন, নাবিল গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে নওয়াপাড়ায় কাজ করাকালীন টিপু জনির কাছ থেকে গম বিক্রির জন্য মোট ৪ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী গম সরবরাহ না করায় জনির ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর টিপু আংশিকভাবে ২ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা ফেরত দেননি।
জনির পরিবারের দাবি, বাকি টাকা আদায়ের জন্য জনি কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি করেননি। কিন্তু গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর টিপুর স্ত্রী হঠাৎ অভিযোগ করেন—টিপুকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপহরণ করে কণা ইকোপার্কে বুকসমান বালুর নিচে পুঁতে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। পরিবারের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো নাটক, যার মাধ্যমে জনিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর ২ আগস্ট টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় বিএনপি নেতা জনিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় ডিশ ব্যবসায়ী মিঠু ও জনির বাবা কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া চারজন এখনো পলাতক রয়েছেন—আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেন, মফিজুর রহমান দপ্তরী ও সৈকত হোসেন হিরা।
অভয়নগর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জনির বোনের ভাষ্যমতে, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও যুক্ত। রাজনৈতিক উত্থান ঠেকাতে প্রতিপক্ষরা মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।


