মীর্জা আখিরুজ্জামান সান্টু, যশোর জেলার ক্রীড়া অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর যশোরের পালবাড়ি মোড়ের ঘোষপাড়ায়। তাঁর পিতা মীর্জা আলি আহমদ, এবং তিনি পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান। শিক্ষাজীবনে তিনি এইচএসসি পাস করেন এবং পরবর্তীতে কর্মজীবনে টি এ্যান্ড টি বিভাগে যুক্ত হন।
১৯৭৪ সালে সান্টু স্থানীয় “টাইগার ক্লাব”-এ ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। আজগর আলী, মহসিন আলী, গণেশ বাবু, সুভাষ বোস ও আব্দুল কাদেরের অনুপ্রেরণায় তিনি দ্রুতই যশোর ভলিবল অঙ্গনে নিজের অবস্থান মজবুত করেন। “স্বর্ণরেণু ক্রীড়া সংস্থা” ও যশোর জেলা দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর তিনি যশোর জেলা ভলিবল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে দলটি বহু স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করে এবং জেলা ক্রীড়াঙ্গনে ভলিবলকে জনপ্রিয় করে তোলে।
১৯৮৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সান্টু যশোর সেনানিবাসের বিভিন্ন ইউনিটের আর্মি ভলিবল টিমে প্রশিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৯৬ সাল থেকে যশোরের বিভিন্ন স্কুলে ভলিবল কোচ হিসেবে কাজ করেন, যার ফলে নতুন প্রজন্মের অসংখ্য খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে।
১৯৯৯ সালের নভেম্বরে তিনি অলিম্পিক সলিডারিটি প্রোগ্রামের অধীনে চীন ও শ্রীলঙ্কার প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে পেশাদার প্রশিক্ষক কোর্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে “যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা”-র ভলিবল কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বহু কৃতি খেলোয়াড় যেমন কামরুল হাসান ও এ্যাডোয়ার্ড লিটন বিশ্বাসকে গড়ে তোলেন।
সান্টুর অবদান শুধু খেলোয়াড় বা প্রশিক্ষক হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকও। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে তিনি ভলিবল পরিষদের সম্পাদক, আর ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি ছিলেন।
খেলাধুলা সংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি “টাইগার ক্লাব”-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, ১৯৭৪ সালে “ইউনাইটেড ক্লাব” এবং ১৯৮৪ সালে “একতা স্পোর্টিং ক্লাব”-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও “টিএ্যান্ডটি ক্লাব”-এর সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ভলিবলে অসামান্য অবদানের জন্য মীর্জা আখিরুজ্জামান সান্টু “বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি”-র যশোর শাখা থেকে বর্ষসেরা ভলিবল খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও অবদানের কারণে যশোর ভলিবল আজও সমৃদ্ধ ইতিহাস বহন করে।
মীর্জা আখিরুজ্জামান সান্টু শুধু একজন খেলোয়াড় ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণা, যিনি যশোরের ভলিবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও সংগঠক—তিন ভূমিকাতেই তিনি রেখে গেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত, যা আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


