বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চলমান বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার খবরে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নতুন লঘুচাপের কারণে বৃষ্টির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
রোববার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় বৃষ্টি হবে। পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (১৮ আগস্ট) নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য অঞ্চলে এই লঘুচাপ তৈরি হতে পারে।
এর ফলে আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির মাত্রা সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ সন্ধ্যা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় যে আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে তা হলোঃ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি।দেশের অন্যান্য বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হবে।বজ্রপাতের সঙ্গে দমকা হাওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে।
এছাড়া আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর এই সময়ে নিয়মিত বৃষ্টি হয়। তবে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বেড়ে যায় এবং তা অনেক সময় নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা বা হঠাৎ বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—বজ্রঝড়ের সময় খোলা জায়গায় না থাকার জন্য।নদী বা খালে নৌকা চলাচলে সতর্ক থাকার জন্য।ঝুঁকিপূর্ণ গাছের নিচে বা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে আশ্রয় না নেওয়ার জন্য।
বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য যেমন উপকারী, তেমনি অতিরিক্ত বৃষ্টি কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে। বিশেষ করে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি ধানক্ষেতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
শহরাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে, যা জনজীবনকে ব্যাহত করবে।
আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিনে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যারা সমুদ্রগামী জেলে, তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টির স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকলেও বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ সৃষ্টির কারণে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগেও বৃষ্টি চলমান থাকবে। তাই জনসাধারণকে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


