যশোরের প্রখ্যাত সাংবাদিক, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহর মৃত্যুর সংবাদে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ।
রুকুনউদ্দৌলাহ দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক সংবাদ পত্রিকার যশোর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর লেখনীতে উঠে আসতো স্থানীয় সমস্যা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের গল্প। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
এক শোকবার্তায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, “সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহ ছিলেন সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। যশোরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন সজ্জন, মুক্তমনা ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ। নিজের গুণাবলীর মাধ্যমে তিনি যশোরকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।”
উপাচার্য আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুতে যশোরবাসী একজন মূল্যবান সংস্কৃতিসেবী এবং সমাজবান্ধব মানুষকে হারালো। তিনি যবিপ্রবির পক্ষ থেকে রুকুনউদ্দৌলাহর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
রুকুনউদ্দৌলাহ কেবল সাংবাদিকতা নয়, সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যশোরকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত করতে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি সংস্কৃতি বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
তাঁর সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা বিশ্বাস করেন, রুকুনউদ্দৌলাহর স্মৃতি যশোরের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং সংস্কৃতিসেবী হিসেবে তিনি সবসময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় থাকবেন।
রুকুনউদ্দৌলাহর মৃত্যুতে যশোর ও জাতীয় পর্যায়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর আদর্শ, সততা ও মানবিকতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


