বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আগামী রোববার (২৪ আগস্ট) সাক্ষাৎ করবেন ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার পর পাকিস্তানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান ইসহাক দার। তিনি আসেন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রায় ১৩ বছর পর কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সফরকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের মাঝে একাধিকবার টানাপোড়েন সৃষ্টি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে।
ইসহাক দারের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ নতুন মাত্রা পেতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে যেসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে—দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট ও মানবাধিকার ইস্যু, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক ও দলীয় কূটনীতি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
ইসহাক দারের এই সফরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসহাক দারের সফর শুধু রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
ঢাকা সফরকালে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এর মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বৈঠকগুলো থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


