যশোর—বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের এই আলো-ঝলমল শহর শুধু একটি ভূগোল নয়, এটি মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। দিনের বেলায় শহরটি যতটা ব্যস্ত ও ছুটে চলার প্রতীক মনে হয়, রাত নামলেই ভৈরব নদের তীরে দাঁড়ালে বোঝা যায়—এই শহর আসলে বেঁচে আছে, নিজের অনন্য ছন্দে।
মানুষের ভিড়, ব্যস্ত সড়ক আর অবিরাম চলার মধ্যে কখনো কখনো যশোরকে প্রাণহীন মনে হতে পারে। কিন্তু রাতের যশোর সম্পূর্ণ ভিন্ন—শান্ত নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে শোনা যায় নিঃশব্দ হাওয়ার সুর, মিশে থাকে চেনা হাসি, অচেনা ভরসা আর ইতিহাসের অমলিন গন্ধ। এখানেই লুকিয়ে আছে যশোরের আসল আত্মা।
যশোর শুধু আজকের শহর নয়; এর বুকে লুকিয়ে আছে গৌরবের অতীত। এই মাটিতে হেঁটেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এসেছেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু থেকে মহাত্মা গান্ধী—অনেক মহান মানুষ তাঁদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন এই শহরে। সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আবাসস্থল হিসেবে যশোর আজও ধ্বনিত হয় ইতিহাস আর ঐতিহ্যের আলোয়।
যশোর কেবল ইট, কাঠ আর লোহার সমাহার নয়। এ শহর মানবিকতার এক উজ্জ্বল স্পন্দন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সাহিত্যসভা আর নাট্যমঞ্চ যশোরকে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা। এখানকার মানুষ আতিথেয়তায় অনন্য, আর সেই মানবিকতার ছোঁয়াই শহরটিকে করে তুলেছে আপনজনের মতো উষ্ণ।
যশোর শহরকে ঘিরে বয়ে চলেছে ভৈরব নদ, যা শহরের প্রাণের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দিনের কোলাহল শেষে যখন নদীর জলে ঝলমল আলো পড়ে, তখন মনে হয়—শহরটা এক নীরব সঙ্গী। কখনো নির্লিপ্ত, আবার কখনো আপনজনের মতো আপন করে নেয় যশোর।
যশোর কেবল অতীতের ইতিহাস নয়; এটি ভবিষ্যতেরও শহর। এখানে গড়ে উঠছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নে উজ্জ্বল এই শহর আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দেবে।
অবশেষে বলা যায়—যশোর আমাদের কাছে শুধু একটি শহর নয়, এটি আমাদের জীবন, আমাদের স্বপ্ন আর আমাদের আবেগের ঠিকানা। ভৈরবের জলে প্রতিফলিত আলো যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়, শহরটা এখনো বেঁচে আছে—আমাদের সবার জন্য, আমাদের হৃদয়ের গভীরে।
👉 যশোর শহর তাই ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিকতার মেলবন্ধন—যেখানে প্রতিটি মানুষ খুঁজে পায় নিজের শেকড় আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
✍️ জীবনী ও তথ্যসংগ্রহ: সাজেদ রহমান | যশোর 📅 প্রকাশকাল: ২৩ আগস্ট ২০২৫


