যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি অনুষদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, সঠিক বন্ধু নির্বাচন জীবনে সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি, কারণ ভালো বন্ধু হতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক, আর খারাপ বন্ধু বিপথগামী করতে পারে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “একজন অভিভাবক যেমন সন্তানের জীবনের পথ সহজ করে দিতে পারেন, ঠিক তেমনি একজন ভালো বন্ধু জীবনের পথ আলোকিত করতে পারে। অপরদিকে, খারাপ বন্ধুত্ব জীবনের পথকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।”
তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান, তারা যেন সতর্কভাবে বন্ধু নির্বাচন করে এবং এমন বন্ধু বেছে নেয় যারা ইতিবাচক, সহায়ক এবং প্রেরণাদায়ী। উপাচার্য মনে করেন, সঠিক বন্ধুত্ব শুধু পড়াশোনায় নয়, পুরো ক্যাম্পাস জীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২৫ আগস্ট সোমবার যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর।
এদিন যবিপ্রবির চারটি অনুষদে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়: জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদ ও কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ।
ওরিয়েন্টেশনের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি দুইটি পর্বে বিভক্ত ছিল, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পায়।
উপাচার্য তার বক্তৃতায় জানান যে, যবিপ্রবি বর্তমানে টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাংকিং-এ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন: “আমাদের এই সাফল্য ধরে রাখতে এবং বিশ্ব দরবারে যবিপ্রবির মর্যাদা আরও বাড়াতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু মেধাবী হওয়া যথেষ্ট নয়, মানবিক গুণাবলীও অর্জন করতে হবে।”
তিনি নবীনদের অনুপ্রাণিত করেন যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্কিং-এর সুযোগ পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যবিপ্রবিতে বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন সক্রিয় রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে।যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন: ডিবেট ক্লাব, পাবলিক স্পিকিং সেশন ও লিডারশিপ ট্রেনিং।নেতৃত্ব বিকাশ: রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম।একাডেমিক সাপোর্ট: রিসার্চ গ্রুপ ও ল্যাবরেটরি ভিত্তিক প্রজেক্ট।
উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান, তারা যেন এসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে একজন সফল, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। ক্যাম্পাস জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষক, সিনিয়র এবং প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেন।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন — কোষাধ্যক্ষ ও ডিন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম — ডিন, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ, অধ্যাপক ড. শিরীন নিগার — ডিন, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ, অধ্যাপক ড. মো. জাফিরুল ইসলাম — ডিন, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদ।

তাঁরা নবীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, নৈতিকতা এবং একাডেমিক উৎকর্ষের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. সাব্বির হোসেন ও মো. শাহানুর রহমান।
যবিপ্রবির এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান শুধু একটি নবীন বরণই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন যাত্রার সূচনা। এখানে তারা একদিকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে এগোবে, অন্যদিকে ভালো বন্ধু, ভালো শিক্ষক এবং সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ পাবে।
যবিপ্রবির উপাচার্যের ভাষায়: “তোমরা শুধু ভালো শিক্ষার্থী নও, বরং আগামী দিনের নেতৃত্ব। নিজেদের যোগ্যতা, নৈতিকতা ও মানবিকতা দিয়ে এই দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখতে হবে।”


