সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন ও প্রমোশন আটকে রাখার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যবিপ্রবি প্রশাসন এসব সংবাদকে “অমূলক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে তিন দফা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
যবিপ্রবি প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়, সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় “যবিপ্রবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি আটকে থাকার অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।
প্রশাসন জানায়, বিগত সরকারের পতনের পর প্রশাসনে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যবিপ্রবি আইন ২০০১ অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নীতিমালা যুগোপযোগী করেছেন।
শিক্ষক নিয়োগের উচ্চতর ও নিম্নতর বাছাই বোর্ড, কর্মকর্তা বাছাই বোর্ড এবং কর্মচারী বাছাই বোর্ড নতুনভাবে গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের ১৫টি বিভাগের বোর্ড সদস্য মনোনয়ন দিয়েছে, বাকিগুলোর প্রক্রিয়া চলমান।
যবিপ্রবি প্রশাসন জানিয়েছে- ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ১০৮তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ১৫টি বিভাগের নিয়োগ বোর্ডে নতুন সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে রেজিস্ট্রার কর্তৃক সকল বিভাগে শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনের জন্য প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ প্রেরণের অনুরোধ করা হয়।এই তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে।বিভাগগুলো থেকে প্ল্যানিং কমিটির রিপোর্ট পাওয়া মাত্র বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হবে।
এছাড়া ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি এবং ২ জুন ২০২৫ তারিখে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে আবেদন যাচাই-বাছাই ও কমপারেটিভ স্টাডি (CS) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রশাসন আরও জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৮টি বিভাগ ও ১টি অনুষদে মোট ৫৮টি বোর্ড গঠন করতে হচ্ছে, যার মধ্যে ২৯টি উচ্চতর এবং ২৯টি নিম্নতর বাছাই বোর্ড। এর অর্ধেক ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য মোট ১৭টি বাছাই বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও ইতিমধ্যে রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদিত হয়েছে।
এই প্রক্রিয়াগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে প্রশাসন কাজ করছে। তবে বহিঃস্থ সদস্য মনোনয়ন ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন একটি দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সময় লাগছে।
যবিপ্রবি প্রশাসন জানায়, যেখানে নিয়োগ ও প্রমোশনের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে, সেখানে ২৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটির যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রশাসনের ভাষায়, “এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও তথ্যবিহীন সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এই ধরনের অপপ্রচার সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থি এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।”
যবিপ্রবি প্রশাসন জানায়, নিয়োগ, পদোন্নতি, একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম একসাথে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসন গঠনমূলক সমালোচনা ও সঠিক তথ্য প্রকাশকে স্বাগত জানালেও, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নবিরোধী কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রশাসন আরও উল্লেখ করে,“যবিপ্রবি সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিভ্রান্তিকর সংবাদ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয়।”


