যশোরের মুক্তেশ্বরী নদী দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের শিকার হয়ে আসছে। নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বিল হরিণার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি নদী ভরাট করে প্লট তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একযোগে সোচ্চার হয়েছেন। তারা মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষা এবং বিল হরিণার জলাবদ্ধতা নিরসনে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।
রোববার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়ায় মুক্তেশ্বরী নদীর পাড়ে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশের আয়োজন করে বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন আন্দোলনের আহ্বায়ক শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রসুল, বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খন্দকার আজিজুল হক মনি এবং অধ্যাপক আবু সাঈদ মো. আতিকুর রহমান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী মুক্তেশ্বরী নদী দখলমুক্ত এবং বিল হরিণার জলাবদ্ধতা নিরসনে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। প্রধান দাবিগুলো হলো- ভাতুড়িয়া পূর্বপাড়ায় নদী ভরাট করে প্লট বিক্রির অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।মুক্তেশ্বরী নদীর সীমানা সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নির্ধারণ করে স্থায়ী পিলার স্থাপন করতে হবে।সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে।
কৃষিজ ফসল পরিবহনের সুবিধার্থে নদী ও খালের উভয় পাশে রাস্তা নির্মাণ করতে হবে।মুক্তেশ্বরী নদীর সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী খনন করতে হবে।জিয়া খালকে পুনঃখনন করে সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।বিল হরিণার তিনটি শাখা খাল — ত্রিকিন নালা, সিক্বের নালা ও হরের নালা পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করতে হবে।এলাকায় ব্রিজগুলো উঁচু ও প্রশস্ত করে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।জিয়া খালের ব্রিজ পুনঃনির্মাণ করতে হবে।নদী ও খাল দখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।পরিবেশগত বিপর্যয় নিরূপণ করে টেকসই সমাধান গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে মুক্তেশ্বরী নদীর আওতাভুক্ত বিল হরিণার প্রায় ৩,৭০০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষক, ভুমিহীন ক্ষেতমজুর ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনুমান করা হচ্ছে, এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দশ কোটি টাকা।
সমাবেশ শেষে বাপা’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় আন্দোলনকারীরা যশোর জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা নদী দখল ও বিল হরিণার জলাবদ্ধতা সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
জেলা প্রশাসক জানান, মুক্তেশ্বরী নদী দখল করে প্লট তৈরির অভিযোগ তদন্তে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


