বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত এখন পর্যটন ভিসা ছাড়া সব ধরনের ভিসা ইস্যু করছে। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ভিসা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করা হয়েছে। তবে পর্যটন ভিসা এখনও বন্ধ থাকায় অনেকেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ভিসা বাংলাদেশিদের জন্য ইস্যু করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বাধিক। তবে এ সুযোগে অসাধু ভিসা এজেন্ট ও দালাল চক্রের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় আবেদনকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।
আগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ ভারতীয় ভিসা ইস্যু করা হতো। ২০২৩ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন গড়ে ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ ভিসা দেওয়া হতো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যদিও বর্তমানে পর্যটন ভিসা বন্ধ, তবুও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে — যেমন মেডিকেল ভিসা, ব্যবসা ভিসা, শিক্ষা ভিসা, কনফারেন্স ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিসা — প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার ভিসা প্রদান করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে মোট ১৬টি ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে ভারতীয় ভিসার আবেদন নেওয়া হতো। কিন্তু ঐ সময়কালে চারটি ভিসা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়।
এ কারণে এখন বাংলাদেশে মাত্র পাঁচটি ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। শুরুতে শুধুমাত্র শিক্ষার্থী ও মেডিকেল ভিসা প্রদান করা হলেও এখন পর্যটন ভিসা ছাড়া প্রায় সব ধরনের ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।
ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পূর্ণমাত্রায় ভিসা কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতীয় ভিসার সীমিত প্রাপ্যতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু এজেন্ট ও দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, অনেক এজেন্ট ভিসা আবেদন পোর্টালে কৃত্রিম জট তৈরি করছে, যার ফলে প্রকৃত আবেদনকারীদের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে অন্তত চারজন অসাধু এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অসাধু এজেন্টরা টাকার বিনিময়ে সাধারণ আবেদনকারীদের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করছে।
তাদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হচ্ছে—ভুয়া মেডিকেল ডকুমেন্টস,ভারতের হাসপাতালের ভুয়া সুপারিশপত্র,জাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার,ভুয়া প্লেন টিকেট,মিথ্যা ব্যাংক স্টেটমেন্ট। এসব কারণে অনেক জরুরি প্রয়োজনীয় ভিসা আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।
ভারতীয় হাইকমিশন পরামর্শ দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অজানা এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে ভিসা আবেদন না করতে। বরং সরাসরি অনুমোদিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।
তাছাড়া, জরুরি প্রয়োজনে থাকা আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
যদি আপনি ভারতীয় ভিসা পেতে চান, তবে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি: শুধু সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন – https://indianvisa-bangladesh.nic.in
- এজেন্টদের ফাঁদে না পড়ুন
- প্রয়োজনীয় সব আসল কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন
- ভিসা আবেদনের আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নিয়মিত চেক করুন
- জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি হাইকমিশনের হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন
ভারতীয় হাইকমিশনের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, পর্যটন ভিসা এখনও চালু হয়নি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত পর্যটন ভিসা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
যারা চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে ভারত যেতে চান, তাদের জন্য বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।


