বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা চলছে। নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা, মবকারীদের প্রভাব, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ও কমিশনের প্রস্তুতি—সবকিছু নিয়েই মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি এন জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—নির্বাচনে মবকারীরা সুবিধা নিতে পারবে না, কারণ তারা ৩০০ আসনে ভাগ হয়ে যাবে।
সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, জাতীয় সংসদের সবক’টি ৩০০ আসনের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে যারা মব সৃষ্টি করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চান, তারা নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়বেন। ফলে একই জায়গায় তাদের জমায়েত হওয়া সম্ভব হবে না। এ কারণে নির্বাচনের সময় তারা কোনোভাবেই সুবিধা নিতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্বাচনী চিঠি পাওয়ার পর থেকেই সব কার্যক্রম দ্রুততর করা হয়েছে। তবে তারও আগে অনেক বড় কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছিল, যেন শেষ মুহূর্তে কোনো ঘাটতি না থাকে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন কোনো দায় বা দোষ নিতে রাজি নয়। আমরা এমন প্রস্তুতি নিচ্ছি যাতে কেউ বলতে না পারে যে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। সরকার যখনই নির্বাচন চাইবে, কমিশন প্রস্তুত।”
বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, অতীতে মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এবারও তারা আশাবাদী, কারণ রাজনৈতিক দলগুলো দেশের স্বার্থেই কাজ করবে। প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন, যা নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি জোর দিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপ অনুভব করেননি এবং কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
নির্বাচন নিয়ে নানা গুজব প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সিইসির মতে, বাংলাদেশে গুজব যেন এক ধরনের শিল্পে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন মহল গুজব তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে তিনি সবাইকে এ ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে কমিশনের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে অবহিত করেন।
নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিইসি বলেন, “পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।”
সবশেষে সিইসি আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেবে না। অতীতে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, এবার তা হবে না। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্যই তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে।


