বাংলাদেশে আবারও সোনার দাম কমলো। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম পতনের পাশাপাশি দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে এই দাম কমানো হয়েছে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা পর্যন্ত।
নতুন স্বর্ণের দাম কার্যকর হবে ২৮ অক্টোবর থেকে
সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দামের সিদ্ধান্ত ২৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকায়।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ার কারণে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও দামের এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতি ক্যারেট অনুযায়ী নতুন স্বর্ণের দাম
সাম্প্রতিক ঘোষণায় বিভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে নিচের মতো—
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি: ২,০৪,২৮৩ টাকা
- ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি: ১,৯৪,৯৯৯ টাকা
- ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি: ১,৬৭,১৪৫ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি: ১,৩৮,৮৪২ টাকা
এর আগে গত রোববারও বাজুস স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দাম কমলো এই মহামূল্যবান ধাতুর।
রুপার দামও কমানো হয়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি এবার কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়।
এছাড়া—
- ২১ ক্যারেট রুপা: ৪,০৪৭ টাকা
- ১৮ ক্যারেট রুপা: ৩,৪৭৬ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির রুপা: ২,৬০১ টাকা
দামের পরিবর্তনের কারণ কী?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কিছুটা নিম্নমুখী। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে ডলার বা শেয়ারবাজারে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারেও।
বাংলাদেশে আবার উৎসব মৌসুম শেষ হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। জুয়েলারি দোকানগুলোতে বিক্রি কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে, আর তাতেই দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্বর্ণ বাজারে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
দাম কমার খবরে অনেক ক্রেতা আবার দোকানমুখী হচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, স্বর্ণে বিনিয়োগের এখনই ভালো সময়। তবে অনেকেই অপেক্ষা করছেন দাম আরও কিছুটা কমে গেলে কেনার জন্য।
এক ক্রেতা জানান, “গত মাসেও ভরি প্রতি দাম ছিল অনেক বেশি। এখন একটু কমেছে, কিন্তু এখনও অনেকের নাগালের বাইরে।”
বাজুসের ভূমিকা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেশের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়। বাজুসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও দামের সমন্বয় করা হবে।


