শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে যশোর। গত ক’দিনের অব্যাহত শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। পাশাপাশি হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার সাথে কুয়াশাও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে গ্রামে শহরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। রোববার যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ দিন যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যশোরে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি হালকা থেকে মাঝারি ধরণের কুয়াশা পড়ছে। শেষ রাত থেকে শুরু করে ভোর দিক পর্যন্ত ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। বেলা বাড়লে মাত্রা অনেকটা কমে আসলেও হালকা ধরণের কুয়াশা চোখে পড়ছে। এছাড়া মেঘের আড়াল থেকে মাঝে মাঝে সূর্য উঁকি দিলেও তাপ ছড়াচ্ছে না। ঠান্ডার দাপটের কাছে যেন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে সূর্যটাও।
তীব্র ধরণের এই ঠান্ডার কারণে কৃষকরা বোরের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থের আশংকা করছেন। প্রচন্ড এই ঠান্ডা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে বীজতলা ‘কোল্ড স্ট্রোকে’ বিনষ্টের দুশ্চিন্তা করছেন। আলু ও সরিষার যারা আবাদ করেছেন তারাও ঠান্ডা ও কুয়াশায় চারা নষ্টের আশংকা করছেন।
এদিকে গায়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণীকূলেরও জবুথবু অবস্থা। তীব্র রকমের শীতে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরাও নাকাল হয়ে পড়ছে। শীতের দাপটে সবচে কষ্ট পাচ্ছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবন জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে তাদের রুটি রুজির সন্ধানে ঘরের বাইরে বের হতে হচ্ছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে ভোরের আলো ফুটতেই কাজের জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়ছেন।
যশোরের স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার সকালে যশোরে সর্বনি¤œ ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শনিবার যশোরে রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিন ফরিদপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি রের্কড করা হয়েছিল। শুক্রবারও যশোরে সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল চুয়াডাঙ্গায়। বৃহস্পতিবার যশোরে ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিনও দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল চুয়াডাঙ্গাতে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, যশোরসহ রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। যার কারণে এসব অঞ্চলে তীব্র শীত পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়সের নিচে নেমে আসলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
এদিকে শহরের চাইতে গ্রামের দিকে শীতের তীব্রতা তুলনায় বেশি। গ্রাম এলাকায় হিমেল হাওয়া ও কুয়াশাও পরিমাণ বেশি পড়ছে। সঙ্গত কারণে তাপমাত্রাও গ্রামের দিকে অনেক নিচের দিকে। তাই গ্রামের শীত যেন সূচের মতন করে হাড়ে বিঁধছে বলে জানালেন মনিরামপুরের রোহিতা ইউনিয়নের পলাশী গ্রামের হোটেল ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম।
তিনি বলেন, শীত জেঁকে বসায় মানুষজন ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। বাজারে লোকজনের আনাগোনা কমে গেছে। দরকার না হলে সেভাবে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিকেলের দিকে বাজারে মানুষজনের উপস্থিতি একটু বাড়লেও সন্ধ্যার পর কমে যাচ্ছে।
প্রচন্ড শীতের কারণে শুধু গরম কাপড়ে শীত মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামে শহরে সবখানে আগুনের ওম নেওয়ার চেষ্টার দৃশ্য নজরে পড়ছে।


