যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আয়োজন করা হলো ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রঙিন বেলুন উড়িয়ে এই বিজ্ঞান উৎসবের সূচনা হয়। বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অলিম্পিয়াড যশোর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
যবিপ্রবিতে জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী আয়োজন
বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং যবিপ্রবির বিজ্ঞান অনুষদের সার্বিক সহযোগিতায় এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে যবিপ্রবি প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
উদ্বোধনের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
যশোর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা
যশোর জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এই জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফ হোসেন গ্যালারিতে। নির্ধারিত সময়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে বিজ্ঞানভিত্তিক লিখিত ও ধারণামূলক প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়।
এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, গণিত এবং সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল শেখার পাশাপাশি নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ
প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজয়ীদের মুখে ছিল আনন্দ আর গর্বের হাসি, যা পুরো আয়োজনকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসেন আল মামুন বলেন, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং যারা অংশগ্রহণ করেছেন, সবাই প্রশংসার দাবিদার। তিনি ভবিষ্যতেও যবিপ্রবিতে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞানমনস্ক এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিজ্ঞানচর্চায় যবিপ্রবির অগ্রণী ভূমিকা
যবিপ্রবি দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করছে। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ড. মো. কোরবান আলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।
বিশিষ্ট শিক্ষকদের উপস্থিতি ও বক্তব্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুম বিল্লাহ, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়া যশোরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
শিক্ষকরা তাঁদের বক্তব্যে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব, গবেষণার প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সফল আয়োজন
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থী মো. আসিফ করিম আলভী ও মনিকা সরকার। তাঁদের সাবলীল উপস্থাপনা পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আয়োজকদের সুচিন্তিত পরিকল্পনার কারণে ১৫তম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬ যশোর অঞ্চলে একটি সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হয়।
ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান নেতৃত্ব গঠনে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের গুরুত্ব
জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তাঁদের মাঝে উদ্ভাবনী মানসিকতা তৈরি করেছে।
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যবিপ্রবি দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬ যশোর অঞ্চলে বিজ্ঞানচর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।


