বাংলাদেশে শীতপ্রেমীদের জন্য সুখবর নয়—দেশের পাঁচটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীতের দাপট শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণ এবং পূর্বাভাস
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ রোববার (৪ জানুয়ারি) তার ফেসবুক পোস্টে এই পূর্বাভাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে আগত কুয়াশার বলয় আবারও রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করেছে। এর ফলে রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সারা দেশে কুয়াশার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এটি বিশেষ করে শীতপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য সতর্কবার্তা।
ঘন কুয়াশার প্রভাব এবং সূর্যের আলো কম পাওয়ার সম্ভাবনা
ফেসবুক পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ উল্লেখ করেছেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে পাওয়া কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঘন কুয়াশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সন্ধ্যার পর এসব অঞ্চলে কুয়াশা আরও ঘন হয়ে উঠতে পারে।
শীতপ্রবাহের কারণে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় দুপুর ২টার আগে সূর্যের আলো দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগেও সকাল ১০টার আগেই সূর্যের আলো দেখতে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কুয়াশা পরিস্থিতি
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাকি তিন বিভাগে—বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কুয়াশা থাকতে পারে। যদিও তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি না নেমলেও আর্দ্রতা এবং কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি তীব্র হতে পারে।
নিরাপদ থাকার পরামর্শ
শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বাড়িতে থাকা এবং গরম কাপড় পরা অত্যন্ত জরুরি। সকালের সময় রাস্তায় চলাচল করলে বা বাইরের কাজে গেলে, ঘন কুয়াশার কারণে কম দৃশ্যমানতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গৃহবন্দী মানুষদের জন্য গরম পানীয়, হালকা খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে হাত, মুখ ও গলা ঢেকে রাখা ভালো।
শৈত্যপ্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের শীতকালীন আবহাওয়া পরিবর্তনশীল এবং শৈত্যপ্রবাহ দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। এর পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। শীতকালে তাপমাত্রার হঠাৎ পতন এবং কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি এই পরিবর্তনেরই একটি প্রমাণ।
বাংলাদেশের আবহাওয়া বিষয়ক কর্তৃপক্ষও শীতের মৌসুমে জনগণকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত পূর্বাভাস জারি করে। মোস্তফা কামাল পলাশের মতো আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে জনসাধারণকে প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করেন।
শেষ কথা :
সার্বিকভাবে বলা যায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশের পাঁচটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার কারণে কনকনে শীত অনুভূত হবে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গরম কাপড় পরা, বাইরে কম বের হওয়া এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এই শীতপ্রবাহের তথ্য জানিয়ে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


