আগামী দিনের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ভোটের দিন নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মুহূর্ত—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু)। তিনি বলেন, “আমরা যদি আগামী নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করি, তাহলে এই জুলাই আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং আবু সাঈদ, মুগ্ধের মতো ভাইদের আত্মদান সবই বৃথা যাবে।”
নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার শিকদারের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে গণতন্ত্র, আন্দোলন, ত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্বের কথা।
আজ ১০ জানুয়ারি, শনিবার নড়াইল জেলার সি.এম.বি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠজুড়ে ছিল রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের ভিড়।
এই আয়োজন প্রমাণ করে, আবুল বাশার শিকদার শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় গড়া একজন জনপ্রিয় নেতা।
স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুম আবুল বাশার শিকদারের পুত্র মুফতী আনিসুজ্জামান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু)।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম (মনা), পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ সুকেশ সাহা এবং গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মিকাইল রহমান। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে মরহুম নেতার রাজনৈতিক সততা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে থাকার গল্প।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পেছনে রয়েছে মানুষের রক্ত, ঘাম এবং আত্মত্যাগ। জুলাই আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনগুলো হঠাৎ করে হয়নি। বহু তরুণ জীবন দিয়েছে, অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা যদি নিজেদের স্বার্থে বা ভুল সিদ্ধান্তে সেই ত্যাগকে অবমূল্যায়ন করি, তাহলে শহীদদের আত্মা কখনও শান্তি পাবে না।” তার বক্তব্যে ছিল আবেগ, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক ধরনের সতর্ক বার্তা।
শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে আবু সাঈদ ও মুগ্ধের নাম উল্লেখ করে বলেন, এরা কেবল নাম নয়, এরা প্রতীক। তারা সাহসের প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক। তিনি বলেন, এই তরুণদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমরা কথা বলছি, সভা করছি। তাই আমাদের প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে হবে ভেবেচিন্তে, দায়িত্ব নিয়ে।
এই কথাগুলো উপস্থিত মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেকেই নীরবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানান।
স্মরণ সভায় বক্তারা মরহুম আবুল বাশার শিকদারের রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, তিনি ছিলেন নড়াইল অঞ্চলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা, যিনি ক্ষমতার রাজনীতির চেয়ে মানুষের সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করেছেন। এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং সংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বক্তারা বলেন, এমন নেতার অভাব আজও মানুষ অনুভব করে।
সভাপতির বক্তব্যে মরহুমের পুত্র আনিসুজ্জামান শিকদার খাইরুজ্জামান বলেন, “আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কতটা ভালোবাসার স্থানে ছিলেন।” তার কণ্ঠে ছিল গর্ব আর কৃতজ্ঞতার মিশ্রণ।
তিনি বলেন, তার বাবা রাজনীতি করতেন মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়। সেই আদর্শ বুকে ধারণ করেই তিনি সামনে এগোতে চান।
স্মরণ সভা শেষে মরহুম আবুল বাশার শিকদারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সেই সময় পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে নীরব ও আবেগঘন। সবাই হাত তুলে প্রার্থনা করেন একজন নেতার আত্মার শান্তির জন্য।
অনুষ্ঠানে নড়াইল জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও একজন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতার প্রতি সম্মান সবার কাছেই সমান।


