বলিউডে নায়িকাদের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বর্তমান প্রজন্মের দুই জনপ্রিয় তারকা, তখন তা মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সম্প্রতি ঠিক সেটাই ঘটেছে আলিয়া ভাট ও অনন্যা পাণ্ডেকে ঘিরে। একদিকে ‘সুযোগসন্ধানী’ তকমা, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল লাইক—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বিটাউন।
বিতর্কের সূত্রপাত: আলিয়ার পোস্ট ঘিরে শুরু ঝড়
এই গোটা বিতর্কের শুরু একটি সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। আদিত্য ধর পরিচালিত সিনেমা ‘হক’-এ ইয়ামি গৌতমের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন আলিয়া ভাট। শুধু প্রশংসাই নয়, নিজেকে ইয়ামির বড় ফ্যান বলেও দাবি করেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে এটি সহশিল্পীর প্রতি সৌজন্য হলেও নেটদুনিয়ার একাংশ ভিন্ন অর্থ খুঁজে পায়।
অনেকের ধারণা, আদিত্য ধরের পরবর্তী প্রজেক্টে কাজ পাওয়ার লক্ষ্যেই আলিয়া এই প্রশংসায় এতটা উদার হয়েছেন। কারণ আদিত্য ধরের সঙ্গে আলিয়ার পেশাদার সম্পর্ক নিয়ে আগেও নানা জল্পনা হয়েছে।
‘ধুরন্ধর’ প্রসঙ্গ ও পুরনো নীরবতা
এই জল্পনা আরও জোরালো হয় ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাকে ঘিরে আলিয়ার অতীত ভূমিকা সামনে আসতেই। রণবীর সিং অভিনীত এই ছবি মুক্তির আগে বা পরে আলিয়া কোনও শুভেচ্ছাবার্তা দেননি, যদিও রণবীর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সময় শোনা গিয়েছিল, আলিয়ার সৎভাই রাহুল ভাটের সঙ্গে ২৬/১১ মুম্বই হামলার অভিযুক্ত ডেভিড হেডলির যোগাযোগের খবর সামনে আসায় বিতর্ক এড়াতেই নাকি তিনি নীরব ছিলেন।
কিন্তু সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করার পর হঠাৎ করেই আলিয়ার তরফে শুভেচ্ছাবার্তা আসে। এই সময়ের ব্যবধানই নিন্দুকদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
সুযোগসন্ধানী তকমা ও ভাইরাল লাইক
এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে আলিয়াকে সরাসরি ‘সুযোগসন্ধানী’ বলে কটাক্ষ করা হয়। চর্চা শুরু হয় তখনই, যখন সেই পোস্টে লাইক দিতে দেখা যায় অনন্যা পাণ্ডেকে।
এই একটিমাত্র লাইকই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বলিপাড়া থেকে নেটপাড়া—সবখানেই শুরু হয় আলোচনা। অনেকে এটিকে অনন্যার ব্যক্তিগত মতামত বলে ধরেন, আবার কেউ কেউ বলেন এটি আলিয়ার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভের প্রকাশ।
ফিল্মফেয়ার ওটিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫: পুরনো ক্ষতের স্মৃতি
অনন্যা ও আলিয়ার সম্পর্ক যে বেশ কিছুদিন ধরেই ঠান্ডা, তার ইঙ্গিত মিলেছিল ফিল্মফেয়ার ওটিটি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ। সেই অনুষ্ঠানে আলিয়া নাকি অনন্যাকে দেখে চিনতে না চেনার ভান করেন। শুধু তাই নয়, ভিকি কৌশলের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় অনন্যাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান তিনি।
এই মুহূর্তের ভিডিও তখন নেটদুনিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। অনেকেই মনে করেন, সেই অপমানের রেশই আজও রয়ে গেছে অনন্যার মনে।
ক্যাটফাইট নাকি ভুল বোঝাবুঝি?
বলিউডে ক্যাটফাইট শব্দটি বহু পুরনো। কখনও সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে সেটে ঝামেলা, কখনও ভ্যানিটি ভ্যান নিয়ে বিবাদ—এমন উদাহরণ অতীতেও কম নেই। তবে আলিয়া ও অনন্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কি সত্যিই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, নাকি নেটিজেনদের তৈরি গল্প?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। কারণ দু’জনের কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। নীরবতাই আপাতত রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও গসিপ সংস্কৃতির প্রভাব
আজকের দিনে একটি লাইক, একটি কমেন্টই যথেষ্ট বড় বিতর্ক তৈরি করতে। অনন্যার লাইকও তার ব্যতিক্রম নয়। অনেকেই মনে করছেন, হয়তো না ভেবেই লাইক করেছিলেন তিনি। আবার অনেকে নিশ্চিত, এটি ছিল সচেতন সিদ্ধান্ত।
এই ধরনের ঘটনা বলিউডের গসিপ সংস্কৃতিকেই আরও উসকে দেয়। তারকাদের প্রতিটি অনলাইন অ্যাক্টিভিটি এখন মাইক্রোস্কোপের নিচে।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ও বিটাউনের উত্তাপ
আলিয়া ও অনন্যা—দু’জনেরই আলাদা ফ্যানবেস রয়েছে। ফলে বিতর্কে দুই শিবির থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া আসছে। কেউ আলিয়ার পেশাদার বুদ্ধিমত্তাকে সমর্থন করছেন, কেউ আবার অনন্যার সাহসী অবস্থানকে প্রশংসা করছেন।
এই মুহূর্তে বিটাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—এই দ্বন্দ্ব কোথায় গিয়ে থামবে?
সামনে কী হতে পারে?
বলিউডে সম্পর্ক যেমন দ্রুত খারাপ হয়, তেমনই দ্রুত ঠিকও হয়। আজ যারা প্রতিদ্বন্দ্বী, কাল তারাই একই ফ্রেমে ধরা দেন। তাই আলিয়া ও অনন্যার ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ কী অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলবে।
তবে আপাতত একথা নিশ্চিত, ‘সুযোগসন্ধানী’ বিতর্ক ও ভাইরাল লাইক বিটাউনের ক্যাটফাইট তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। আর সেই গল্পে চোখ রেখেছেন লক্ষ লক্ষ অনুরাগী।


