নড়াইলের শিক্ষা অঙ্গনে এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় দিন হিসেবে পালিত হলো চিলড্রেন ভয়েস স্কুলের ১০ বছর পূর্তি। এই বিশেষ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বুধবার স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত পিঠা উৎসব। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন বিকেল পর্যন্ত চলে এবং পুরো সময়জুড়ে স্কুল প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবের রঙে রঙিন।
এই পিঠা উৎসব শুধু একটি আনন্দ আয়োজন নয়, বরং গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস।
নড়াইলের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিলড্রেন ভয়েস স্কুল গত এক দশক ধরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাই এই স্কুলের মূল লক্ষ্য।
১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাই ভিন্নধর্মী একটি আয়োজনের কথা ভাবেন। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় এই পিঠা উৎসব, যেখানে শিক্ষা ও সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
পিঠা উৎসব মানেই শীতের সকাল, মাটির গন্ধ আর ঘরোয়া উষ্ণতা। চিলড্রেন ভয়েস স্কুলের এই আয়োজনে তার সবটুকুই ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় সাজানো ছিল বাহারি সব পিঠার স্টল, যেখানে গ্রামবাংলার চিরচেনা স্বাদ নতুন করে প্রাণ পায়।
মেলায় দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, দুধে ভেজানো পুলি, পাটিসাপটা, নকশী পিঠা, মালপোয়া, মুগ পাকন, লবঙ্গ লতিকা সহ আরও নানা ধরনের মুখরোচক পিঠা। প্রতিটি পিঠাই তৈরি করা হয় ঘরোয়া রেসিপিতে, যা দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের স্মৃতিতে।
এই পিঠা উৎসবের আরেকটি বড় দিক ছিল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সরাসরি অংশগ্রহণ। শুধু দর্শক হিসেবে নয়, অনেক অভিভাবক নিজ হাতে তৈরি পিঠা নিয়ে মেলায় অংশ নেন। শিক্ষার্থীরাও স্টল সাজানো, বিক্রি ও অতিথি আপ্যায়নের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।
এর ফলে শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দলগত কাজের অভ্যাস এবং দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীরভাবে তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই প্রথমবারের মতো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
শীতের সকালে কুয়াশা ভেজা পরিবেশে স্কুল প্রাঙ্গণে এমন দেশীয় আয়োজন সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। বাঁশ, মাটির হাঁড়ি, আলপনা আর রঙিন ব্যানারে সাজানো স্টলগুলো পুরো এলাকাকে করে তোলে উৎসবমুখর।
হাসি, গল্প আর পিঠার সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ। অনেক অভিভাবক ও অতিথি জানান, এমন আয়োজন তাদের ছোটবেলার গ্রামবাংলার পিঠা উৎসবের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
চিলড্রেন ভয়েস স্কুলের পরিচালক সৈয়দ নাজমুল সাকিব জানান, এই পিঠা উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আজকের শিশুরা অনেক সময় নিজেদের শিকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
এই ধরনের আয়োজন শিশুদের শেখায় কীভাবে আমাদের ঐতিহ্যকে ভালোবাসতে হয় এবং তা ধরে রাখতে হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


