যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত হতে না পারায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহার সম্ভব না হলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সময়সীমা অতিক্রম করে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে উপস্থিত হওয়ায় জহুরুল ইসলামের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তিনি এখনো যশোর-২ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় রয়ে গেছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারার পরও রাত ৯টায় যশোর প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান না। দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেরা সুলতানার পক্ষে মাঠে কাজ করবেন।
জহুরুল ইসলাম চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যশোর-২ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অন্তত ১০ জন নেতা। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরা সুলতানা দলীয় মনোনয়ন পান। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জহুরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে জহুরুল ইসলামের প্রার্থিতা প্রথমে বাতিল হয়। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আবারও নির্বাচনী দৌড়ে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রথমে সিল ও স্বাক্ষর করলেও পরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার সেটি কেটে দেন এবং নির্বাচন আইন দেখিয়ে আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি আরও বলেন, জেলা রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হলেও সেখান থেকেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। জহুরুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানান, ব্যালট পেপারে যেন তার নাম ও প্রতীক না থাকে, সে জন্য প্রয়োজনে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি রাজনৈতিক কারণে বহুবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তবুও দল ও সংগঠনের প্রতি তার আস্থা অটুট রয়েছে। বিএনপির স্বার্থে সাবেরা সুলতানাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠে না থাকলেও তিনি ও তার সমর্থকরা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন এবং এলাকার মানুষের সেবায় আগের মতোই নিয়োজিত থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ চৌগাছা উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার তানভীর আহমদ বলেন, জহুরুল ইসলাম বিকাল পাঁচটার পর তার কাছে এসেছিলেন। তখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণের সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, আবেদনপত্রে তিনি কোনো স্বাক্ষরও করেননি।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না হওয়ায় জহুরুল ইসলামের নাম চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার নামে প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হবে। ফলে আইনগতভাবে তিনি এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন।
যশোর-২ আসনে জহুরুল ইসলাম ছাড়াও প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সাবেরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর মোহম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে ইমরান খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) থেকে শামছুল হক এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে রিপন মাহমুদ।


