জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই। শনিবার দুপুরে (২৪ জানুয়ারি) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকালের দিকে তিনি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ। তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর পর আজাদুল কবির আরজুর মরদেহ প্রথমে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ বারের মতো দেখতে ভিড় করেন। বিকাল ৪ টার দিকে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি এনায়েতপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এশাবাদ দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
তার ইচ্ছা অনুযায়ী রোববার সকালে আজাদুল কবির আরজুর মরদেহ যশোর মেডিকেল কলেজে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ।
আজাদুল কবির আরজু যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের পাশাপাশি রাজনীতি সচেতন তরুণ আরজু আঠারো বছর বয়সে একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।
দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার সেই রণাঙ্গন থেকে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। নির্মম অত্যাচারের পর রাজাকাররা তাকে তুলে দেয় পাকবাহিনীর হাতে। হানাদার বাহিনীর নির্যাতন সয়ে তার ঠাঁই হয় যশোর কারাগারে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হবার পর মুক্তি মেলে তার।
১৯৭৫ সালের শেষ দিকে সমাজকে বদলে দেওয়ার ইচ্ছে নিয়ে যশোরের কয়েকজন যুবক জাগরণী চক্র নামে সংগঠনটি গড়ে তোলেন আজাদুল কবির আরজু। ১৯৭৬ সালে এটি সাংগঠনিক রূপ পায়। সংস্থার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন তরুণ সমাজকর্মী মো. আজাদুল কবির আরজু। যিনি সংস্থার প্রথম সভাপতি শিক্ষাবিদ প্রফেসর শরীফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রায় ৮ হাজার কর্মী। দেশের ৫২ জেলায় প্রায় ১১ লাখ সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ মানুষের সঙ্গে কাজ করছে। দারিদ্র্যমুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যশোর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। গত ৭ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি জাগরণের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। সেই উদযাপনের পরই চিরবিদায় নিলেন আজাদুল কবির আরজু।


