ভাবুন তো, সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। কাজ ভালো যাচ্ছে, সম্পর্ক ভালো, মনটাও শান্ত। হঠাৎ করেই সব উলটপালট। কাজ আটকে যাচ্ছে, ভুল বোঝাবুঝি বাড়ছে, মন খারাপ লাগছে অকারণে। অনেকেই এসবকে কাকতালীয় বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু শাস্ত্রমতে, এর পেছনে অনেক সময় কাজ করে বিষনজর বা নজরদোষ।
বিষনজর মানে শুধু ঈর্ষা নয়। কারও মনের খারাপ ভাব, নেতিবাচক চিন্তা, হিংসা—সব মিলেই এক ধরনের অদৃশ্য শক্তি তৈরি হয়। এই শক্তি ধীরে ধীরে মানুষের জীবনকে নষ্ট করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, কে কার দিকে খারাপ নজর দিচ্ছে, সেটা বোঝা প্রায় অসম্ভব। তাই অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না, সমস্যার আসল কারণ কোথায়।
শাস্ত্র ও সংখ্যাতত্ত্ব বলছে, ২০২৬ সালে কিছু নির্দিষ্ট জন্মতারিখে জন্মানো মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি নজরদোষের ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। সবাই নয়, কিন্তু কিছু তারিখের মানুষদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা খুব জরুরি।
২০২৬ সালে নজরদোষের ঝুঁকিতে থাকা জন্মতারিখগুলো
এগুলো কোনো ভয় দেখানোর কথা নয়। বরং আগে থেকেই সচেতন থাকলে অনেক সমস্যাই এড়িয়ে যাওয়া যায়। ঠিক যেমন বৃষ্টি আসার আগে ছাতা রাখলে ভিজতে হয় না।
৫ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিরা
যাদের জন্মদিন ৫ তারিখ, ২০২৬ সালে তাঁদের একটু বেশি সাবধান থাকা দরকার। বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভুল বোঝাবুঝি, অকারণ ঝগড়া, দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় দেখা যাবে, আপনি ঠিক কাজটাই করছেন, তবু মানুষ ভুল বুঝছে। এমন অবস্থায় শান্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি। কথা বলার আগে ভাবুন, আবেগে কিছু বলবেন না।
৭ তারিখে জন্মানো জাতক-জাতিকা
৭ তারিখে জন্মানো মানুষদের ক্ষেত্রে প্রতারণার আশঙ্কা বেশি। কেউ মিষ্টি কথা বলবে, বিশ্বাসযোগ্য দেখাবে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কাজের ক্ষেত্রেও, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। নিজের ভালো খবর, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বা বড় সিদ্ধান্ত সবার সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালো। সবাই বন্ধু নয়, এটা মনে রাখাই নিরাপদ।
১১ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিরা
এই তারিখে জন্মানো মানুষদের কর্মক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে। অফিসে ভুল বোঝাবুঝি, সহকর্মীদের সঙ্গে সমস্যা, হঠাৎ কাজ আটকে যাওয়া—এই সব হতে পারে। আপনি হয়তো ভালো কাজ করছেন, তবু কেউ কেউ সেটা ভালো চোখে নাও দেখতে পারে। তাই কাজের জায়গায় বেশি কথা না বলে, কাজ দিয়েই নিজের অবস্থান শক্ত করুন।
১৫ তারিখে জন্মানো মানুষ
১৫ তারিখে জন্মানোদের জন্য ২০২৬ সাল একটু সাবধানতার বছর। দুর্ঘটনার যোগ দেখা যায়। রাস্তায় চলাফেরা, গাড়ি চালানো, বাইক চালানো—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা দরকার। তাড়াহুড়ো করবেন না। একটু দেরি হলেও নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় কথা। জীবনটাই তো আসল।
১৯ তারিখে জন্মানো জাতক-জাতিকা
এই তারিখে জন্মানো মানুষদের ক্ষেত্রে নজরদোষের প্রভাব শারীরিক ও মানসিক দুই দিকেই পড়তে পারে। অকারণে ক্লান্তি, মন খারাপ, কাজে মন না বসা—এই রকম অনুভূতি আসতে পারে। বাইরে চলাফেরা করার সময় সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে গাড়ি চালানোর সময় মনোযোগ খুব দরকার।
২১ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিরা
২১ তারিখে জন্মানো মানুষদের জন্য সামাজিক জীবন একটু জটিল হতে পারে। সবাইকে সহজে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। বন্ধুত্ব, কাজের সম্পর্ক, পরিচিত মানুষ—সব ক্ষেত্রেই বাছাই করে চলুন। দ্রুত গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। জীবনটা কোনো রেস নয়, ধীরে চললেই নিরাপদ।
২৭ তারিখে জন্মানো মানুষ
২৭ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাজ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। পরিকল্পনা প্রায় তৈরি, সব ঠিকঠাক, কিন্তু শেষ মুহূর্তে গিয়ে সব এলোমেলো। অনেক সময় এর পেছনে থাকে কারও নেতিবাচক নজর বা ঈর্ষা। তাই নিজের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা, নতুন আইডিয়া, বড় সিদ্ধান্ত খুব সীমিত মানুষের মধ্যেই রাখুন।
কেন কিছু মানুষ সহজে নজরদোষের শিকার হন?
সব মানুষ সমানভাবে নজরদোষে আক্রান্ত হন না। শাস্ত্রমতে, কিছু মানুষের শক্তি ক্ষেত্র বা এনার্জি তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল হয়। তাঁরা খুব আবেগী, খুব বিশ্বাসপ্রবণ, খুব সহজ-সরল হন। ফলে বাইরের নেতিবাচক শক্তি সহজেই তাঁদের প্রভাবিত করতে পারে।
ধরুন, আপনি খুব ভালো মানুষ। সবার ভালো চান। কিন্তু সবাই তো এমন না। কেউ কেউ আপনার ভালো দেখে হিংসা করে, মনের ভেতরে খারাপ ভাব পোষণ করে। সেই ভাবটাই ধীরে ধীরে নজরদোষে পরিণত হয়।
২০২৬ সালে নিজেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?
এখানে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সচেতন থাকলেই অনেক বড় সমস্যা এড়ানো যায়।
প্রথম কথা, কম কথা বলুন। বিশেষ করে নিজের সুখ, সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সব জায়গায় বলে বেড়াবেন না। সব সুখ সবার সহ্য হয় না।
দ্বিতীয়ত, নিজের মন শক্ত রাখুন। নেতিবাচক মানুষদের থেকে দূরে থাকুন। যাদের সঙ্গে কথা বললে মন ভারী লাগে, তাদের এড়িয়ে চলুন।
তৃতীয়ত, শাস্ত্রীয় প্রতিকার হিসেবে বলা হয়, সব সময় সঙ্গে তিনটি গোলমরিচ ও দুটি এলাচ রাখা। এটা ছোট একটা কাজ, কিন্তু অনেকেই বিশ্বাস করেন এতে নেতিবাচক শক্তি অনেকটা দূরে থাকে। ব্যাগে, পকেটে বা পার্সে রাখতে পারেন। এটা একটা মানসিক শক্তিও দেয়। আপনি নিজেই ভেতরে ভেতরে শক্ত অনুভব করেন।
আরেকটা সহজ কাজ হলো, নিয়মিত প্রার্থনা বা ধ্যান। মন শান্ত থাকলে বাইরের নেতিবাচক শক্তি সহজে প্রভাব ফেলতে পারে না।
শেষ কথা
বিষনজর কোনো রূপকথা নয়, আবার সব সমস্যার কারণও এটা নয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমরা সবাই জানি, হিংসা, ঈর্ষা আর নেতিবাচক ভাব মানুষের জীবনকে কতটা ক্ষতি করতে পারে। ২০২৬ সালে যদি আপনার জন্মতারিখ এই তালিকার মধ্যে পড়ে, ভয় পাবেন না। শুধু একটু বেশি সচেতন থাকুন।
নিজেকে আগলে রাখুন। কম কথা বলুন, বেশি শান্ত থাকুন। নিজের শক্তিটাই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। যেমন করে ফোন কভার ছাড়া রাখলে ভাঙার ভয় থাকে, তেমনি মন আর জীবনকে সুরক্ষা দিলেই অনেক বিপদ দূরে থাকে।
সবচেয়ে বড় প্রতিকার একটাই—সচেতন জীবন, শান্ত মন, আর বুদ্ধিমানের মতো চলা।


