যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তরুণ ও যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন, চাকরিতে প্রবেশের একমাত্র শর্ত হবে মেধা ও যোগ্যতা। চাকরির জন্য কাউকে ছাত্রদল করা লাগবে না, এমনকি বিএনপির পরিবারের সদস্য হওয়াও কোনো শর্ত নয়। তরুণদের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা পূরণে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সোমবার যশোর শহরের পৌর উদ্যানে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া তরুণরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, স্বাস্থ্যসেবা, মাদক ও সন্ত্রাস দমনসহ নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে তরুণদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমি সেই পথে হাঁটবো না। তরুণদের বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত করবো। নির্বাচিত হলে তরুণদের নিয়ে আবার বসে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করবো এবং সে অনুযায়ী কাজ করবো।”
নকলমুক্ত পরিবেশ ও চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে থাকাকালে নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তখন কখনো ওঠেনি। মেধাবীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এটাই ছিল বিএনপির নীতি।
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির বিষয়ে তিনি বলেন, কোটার বিরুদ্ধে প্রথম অবস্থান নিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। “মেধা কখনো কোটা থেকে ছোট হতে পারে না”—এই দর্শনেই চাকরির বাজার উন্মুক্ত করতে চায় বিএনপি। তিনি তার পিতা প্রয়াত তরিকুল ইসলামের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতায় থেকেও তিনি কখনো চাকরির বিনিময়ে কারও কাছ থেকে সুবিধা নেননি।
শিক্ষা খাতে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা সহজ করতে স্কুল পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা চালু, কারিগরি শিক্ষার বিস্তার এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে গেমস টিচার নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্রাবাস ও পরিবহন সংকট নিরসনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নারীদের সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের বাইরে রেখে দেশ এগোতে পারে না। বিএনপি অতীতে যেমন নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত সুরক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, যশোর একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক ও চোরাচালান বড় ঝুঁকি। নির্বাচিত হলে সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে যশোরকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে।

যশোরের হারানো রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে ভিন্ন মত ও পথের মানুষকে একত্রিত করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির যশোর গড়ে তোলা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ও সেবার মান বাড়ানো, করোনারি কেয়ার ইউনিট পূর্ণাঙ্গ করা এবং হৃদরোগ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও সবজি সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আইটি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যশোরের আইটি পার্ককে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে যবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।


