ক্রিকেট মানেই উত্তেজনা। আর সেই ক্রিকেট যদি হয় ভারত বনাম পাকিস্তান, তাহলে তো কথাই নেই। মাঠে শুধু দুই দল নামে না, নামে কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। বাড়তি চাপ, দলে বদল, আর সবচেয়ে বড়—করমর্দন হবে কি না।
ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, এই ম্যাচ অন্য পাঁচটা ম্যাচের মতো নয়। বাইরে থেকে যতই বলা হোক ‘এটা একটা সাধারণ খেলা’, ভেতরের বাস্তবতা আলাদা।
সূর্য বললেন, ক্রিকেটাররাও মানুষ। মাঠে নামার আগে চাপ অনুভব করেন। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সেই চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কারণ শুধু জয়ের প্রশ্ন নয়, এখানে সম্মানের লড়াইও জড়িয়ে থাকে।
ভাবো তো, পরীক্ষার হলের কথা। সাধারণ ক্লাস টেস্ট আর বোর্ড পরীক্ষার মধ্যে কি একই রকম অনুভূতি থাকে? থাকে না। ঠিক তেমনই এই ম্যাচ।
করমর্দন বিতর্ক: মাঠে দেখা যাবে সিদ্ধান্তগত বছর এশিয়া কাপে করমর্দন নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় দল প্রথা মেনে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘা স্পষ্ট কিছু বলেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি শুধু জানিয়েছেন, “মাঠেই সব দেখা যাবে।”
একই সুর শোনা গেছে সূর্যকুমারের গলায়। তিনি বলেন, টসের সময়ই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অর্থাৎ দুই অধিনায়কই রহস্য জিইয়ে রাখলেন।
এই ছোট্ট একটা মুহূর্ত নিয়েই এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। কারণ করমর্দন শুধু সৌজন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলে বদল প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। জানা গেছে, অভিষেক শর্মা প্রথম একাদশে ফিরতে চলেছেন। তার পাশাপাশি দলে ঢুকছেন কুলদীপ যাদবও।
দলের এই পরিবর্তন কৌশলগত দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী। তাই স্পিন আক্রমণ বাড়াতে কুলদীপের অন্তর্ভুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে।
অভিষেকের কামব্যাকও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত। শুরুতেই দ্রুত রান তুলতে পারলে ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন।
এই বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত খুব একটা রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখা যায়নি বলে অনেকেই মনে করছেন। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেটবিশ্ব। এই ম্যাচই টুর্নামেন্টে নতুন উত্তেজনা আনতে পারে।
দুই দলই জানে, এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। একটা জয় মানে শুধু পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আগের মতো ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব এখন আর তেমন দেখা যায় না। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বেশি চোখে পড়ে। মাঠের ভেতর উত্তাপ বাড়ে, প্রতিটি বল, প্রতিটি রান নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে ভারতীয় দল। আগ্রাসী মানসিকতা আর ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।
তিনি জানেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভুলের জায়গা কম। ছোট একটা ভুলও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে চাইছে গোটা দল।

সূর্য স্পষ্ট বলেছেন, দল চাপে ভেঙে পড়বে না। বরং সেই চাপকে শক্তিতে পরিণত করতে চাইছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টিভির সামনে ভিড়। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িংরুম—সব জায়গায় একটাই আলোচনা।
এই ম্যাচ শুধু ক্রিকেট নয়, আবেগের লড়াই। তাই সমর্থকরাও চান, মাঠে হোক জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
করমর্দন হবে কি না, কে প্রথমে ব্যাট করবে, কে জিতবে—সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠেই। আপাতত অপেক্ষা।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এই ম্যাচ শুধু দুই দলের নয়। এটা দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ের ম্যাচ। সূর্যকুমার যাদব বাড়তি চাপের কথা স্বীকার করেছেন। পাকিস্তান অধিনায়কও রহস্য বজায় রেখেছেন।
রবিবার মাঠে যখন দুই দল নামবে, তখন শুধু ক্রিকেট নয়—ইতিহাস, আবেগ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসঙ্গে মিশে যাবে। এখন দেখার, করমর্দন দিয়ে শুরু হবে লড়াই, নাকি সরাসরি ব্যাট-বলের সংঘর্ষেই তৈরি হবে নতুন অধ্যায়।


