টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এক নাটকীয় ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে Sri Lanka national cricket team। ম্যাচ জয়ের নায়ক অবশ্যই ওপেনার Pathum Nissanka। তবে তার পেছনে যে নীরব অবদান রয়েছে দুই ভারতীয় কোচের, সেটাই এখন আলোচনার বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়। এটি আত্মবিশ্বাসের জয়, পরিকল্পনার জয়, আর একদল নতুন করে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার গল্প। মাঠে ব্যাট, বল আর ফিল্ডিং—সব জায়গাতেই শ্রীলঙ্কার পরিবর্তন চোখে পড়েছে। আর সেই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ভারতীয় কোচ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় রান তাড়া করা সহজ নয়। কিন্তু সেদিন যেন এক অন্যরকম মেজাজে নেমেছিলেন নিসঙ্কা। মাত্র ৫২ বলে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে তিনি ম্যাচের পুরো চিত্রটাই বদলে দেন। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী শট, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস আর চাপ সামলানোর ক্ষমতা—সব মিলিয়ে তার ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো।
একটা সময় মনে হচ্ছিল বড় রানের চাপ শ্রীলঙ্কাকে পিছিয়ে দেবে। কিন্তু নিসঙ্কা ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। তার ব্যাট থেকে একের পর এক বাউন্ডারি বের হতে থাকে। এতে শুধু স্কোরবোর্ড এগোয়নি, দলের ভেতরেও আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে।
এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় দিক ছিল তার মানসিক দৃঢ়তা। বড় ম্যাচে অনেকেই নার্ভাস হয়ে পড়ে, কিন্তু নিসঙ্কা যেন একদম স্বাভাবিকভাবেই খেলেছেন। এমন পারফরম্যান্সই বড় খেলোয়াড় তৈরি করে।
নিসঙ্কার এই অসাধারণ ইনিংসের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ভারতের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ Vikram Rathour-এর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারদের সঙ্গে কাজ করছেন। তার অভিজ্ঞতা আর আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে কাজ করার অভ্যাস এখন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে নতুন ধার এনে দিয়েছে।
অনুশীলনের সময় তিনি ব্যাটারদের শুধু টেকনিক শেখান না, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে শেখান। কবে ঝুঁকি নিতে হবে, কবে ধীরে খেলতে হবে—এই ছোট ছোট বিষয়ই বড় পার্থক্য তৈরি করে।
ধরা যাক, একজন ব্যাটার যদি জানে চাপের সময় কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়, তাহলে সে বড় ম্যাচেও ভালো খেলতে পারে। নিসঙ্কার ইনিংসে সেই শিক্ষারই ছাপ স্পষ্ট ছিল।
শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও শ্রীলঙ্কার উন্নতি চোখে পড়েছে। একসময় তাদের ফিল্ডিং নিয়ে অনেক সমালোচনা হতো। কিন্তু এখন দলটি অনেক বেশি চটপটে, মনোযোগী এবং আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের বড় কারিগর ভারতের প্রাক্তন ফিল্ডিং কোচ R. Sridhar। প্রায় সাত বছর ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তিনি কাজে লাগাচ্ছেন এখানে।
ম্যাচের একটি মুহূর্তেই বোঝা যায় ফিল্ডিং কতটা বদলেছে। অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার Glenn Maxwell-এর একটি জোরালো শট বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেন নিসঙ্কা। এমন ক্যাচ শুধু দক্ষতা নয়, আত্মবিশ্বাস আর নিয়মিত অনুশীলনের ফল।
ফিল্ডিং ভালো হলে দলের মনোবলও বাড়ে। একটি ক্যাচ, একটি রানআউট পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেই জায়গাতেই এখন অনেক এগিয়ে শ্রীলঙ্কা।
দলের প্রধান কোচ Sanath Jayasuriya ম্যাচের পর দুই ভারতীয় কোচের প্রশংসা করতে ভোলেননি। তিনি জানিয়েছেন, তারা দুজনেই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং খেলোয়াড়দের উন্নত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
জয়সূর্য বলেছেন, তাদের আইপিএল অভিজ্ঞতা ব্যাটারদের জন্য খুব কাজে লাগছে। পাশাপাশি ফিল্ডিং অনুশীলনও অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। ফলে খেলোয়াড়রা মাঠে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামছে।
এটা অনেকটা এমন, যেমন একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকলে ছাত্ররা পরীক্ষার আগে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকে। ঠিক তেমনই, অভিজ্ঞ কোচ থাকলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও উন্নত হয়।
এই হারের ফলে বড় চাপে পড়ে গেছে Australia national cricket team। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে তাদের জন্য।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক Mitchell Marsh-দের দলকে এখন অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। নিজেদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যও তাদের পক্ষে থাকতে হবে।
কারণ যদি Zimbabwe national cricket team পরের ম্যাচে Ireland national cricket team-কে হারিয়ে দেয়, তাহলে তারা সরাসরি সুপার এইটে জায়গা করে নেবে। আর তাতেই অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
যদি জিম্বাবোয়ে হেরে যায়, তাহলেও অস্ট্রেলিয়ার কাজ সহজ হবে না। তখন তাদের শেষ ম্যাচে Oman national cricket team-এর বিরুদ্ধে বিশাল ব্যবধানে জিততে হবে। শুধু জিতলেই হবে না, নেট রানরেটও বাড়াতে হবে।
এরপর আবার তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের দিকে। জিম্বাবোয়ে যেন শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে হারে, সেটাও চাইবে তারা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই জটিল।
এই জয়ের ফলে শুধু সুপার এইটে ওঠাই নয়, দলের ভেতরে নতুন এক আশার আলো জ্বলে উঠেছে। অনেক দিন ধরেই শ্রীলঙ্কা বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছিল না। কিন্তু এবার যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে।
অভিজ্ঞ কোচদের সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের এই মিশেল দলটাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—সব জায়গাতেই ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
এই পরিবর্তনটা একদিনে আসেনি। প্রতিদিনের অনুশীলন, ছোট ছোট ভুল শুধরে নেওয়া, আর আত্মবিশ্বাস তৈরি করার ফলেই এই জায়গায় এসেছে দলটি।
এই টুর্নামেন্টটি হচ্ছে ICC Men’s T20 World Cup 2024। এখানে প্রতিটি ম্যাচই যেন নতুন গল্প লিখছে। কোনো দল নিশ্চিত নয়, প্রতিটি ফলাফলই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলও এখানে হোঁচট খাচ্ছে, আবার শ্রীলঙ্কার মতো দল নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করছে।
শ্রীলঙ্কার জন্য এখন আসল পরীক্ষা শুরু। সুপার এইটে ওঠা মানে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন হবে। তবে এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা যদি খেলে, তাহলে বড় কিছু করাও অসম্ভব নয়।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন বাঁচা-মরার লড়াই। শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তাদের বিদায় নিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ শুধু একটি জয় বা হার নয়। এটি প্রমাণ করে দিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, অভিজ্ঞ কোচ আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো দলই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। শ্রীলঙ্কার এই উত্থানের পেছনে দুই ভারতীয় কোচের অবদান তাই নিঃসন্দেহে বিশেষভাবে মনে রাখার মতো।



