বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—অভিজ্ঞতা, কৌশল ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে একসঙ্গে কাজে লাগানো হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যকর হয়।
এই নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণ ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নতুন সরকারের সূচনালগ্নেই উপদেষ্টা পরিষদ গঠন একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি দলীয় অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদেরও দায়িত্ব দিতে চান। এতে করে নীতিনির্ধারণে সমন্বয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমে উপদেষ্টাদের মর্যাদা ও কার্যক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ফলে তারা সরাসরি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রী পর্যায়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাঁচজন প্রভাবশালী নেতা ও ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন:
১) মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ
২) নজরুল ইসলাম খান
৩) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
৪) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ
৫) অ. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
এই নেতারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। দলীয় নীতি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তারা সমৃদ্ধ। বিশেষ করে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী দেশের রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ। তাদের সম্পৃক্ততা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন আরও পাঁচজন:
১) হামায়ুন কবির
২) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম
৩) ডা. জাহেদুর রহমান
৪) ড. মাহাদি আমিন
৫) রেহান আসিফ আসাম
এদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক পটভূমির কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারণে দক্ষ ব্যক্তিত্ব। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে তারা সরকারের বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা নিয়োগের আগে দিনটি ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় আরও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এই শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
উপদেষ্টা পরিষদ গঠন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অর্থনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ সরকারকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার মাধ্যমে উপদেষ্টারা সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে পারবেন। এতে নীতি বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।



