টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ভারতের তারকা ক্রিকেটার ঈশান কিষাণ। মাঠে তাঁর আগুনঝরা ব্যাটিং যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করছে, তেমনি মাঠের বাইরের একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। সতীর্থের বোনের সঙ্গে তাঁর উদ্দাম নাচের একটি ছোট ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আর সেই ভিডিও নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, নানা আলোচনা।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন ভারত বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পরদিন, ১৯ ফেব্রুয়ারি, টিম হোটেলে ছোট্ট একটি পার্টির আয়োজন করা হয়। উদ্যোগ নেন অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। উপলক্ষ ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী মাহিকা শর্মার ২৫তম জন্মদিন।
ঘর সাজানো হয়েছিল লাল আর নীল আলোয়। কেক কাটা, গান, হাসি—সব মিলিয়ে একেবারে বন্ধুত্বপূর্ণ, হালকা পরিবেশ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঈশান কিষাণ। ছিলেন তরুণ ক্রিকেটার অভিষেক শর্মা এবং তাঁর বোন কোমল শর্মাও।
সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু কেক কাটার পরই হঠাৎ একটা মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ে। দেখা যায়, অভিষেকের বোনের সঙ্গে প্রাণখোলা নাচে মেতে উঠেছেন ঈশান। মাত্র ১৮ সেকেন্ডের সেই ভিডিওই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে।
আজকাল তো জানোই, ১৫–২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিওই অনেক সময় মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিশাল আলোচনা শুরু করে দেয়। এখানেও তাই হয়েছে। ভিডিওটি সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—তাহলে কি নতুন কোনও সম্পর্কে জড়ালেন ঈশান?
আসলে এর আগেই শোনা যাচ্ছিল, মডেল অদিতি হুন্ডিয়া-র সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে রয়েছেন ঈশান। অনেকেই বলছিলেন, খুব শিগগিরই নাকি বিয়ের দিকেও এগোতে পারেন তাঁরা। ফলে এই নতুন ভিডিও সেই জল্পনায় যেন নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
তবে বাস্তবটা এত সহজ নয়। একটা পার্টিতে বন্ধুর বোনের সঙ্গে নাচলেই যে সেটা প্রেমের ইঙ্গিত, এমনটা ভাবা কি ঠিক? অনেকেই বলছেন, বিশ্বকাপের চাপে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এমন হালকা মুহূর্ত খুবই দরকার। একটু গান, একটু নাচ—এতেই মনটা ফ্রেশ হয়ে যায়।
ঈশানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। কয়েকদিন আগে তাঁর ঠাকুরদা অনুরাগ পাণ্ডে জানিয়েছিলেন, অদিতিকে নাতবউ হিসেবে গ্রহণ করতে তাঁর আপত্তি নেই। কথাটা শুনে অনেকে ভেবেছিলেন, হয়তো বিয়ের দিকেই এগোচ্ছে বিষয়টি।
কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই অন্য সুর শোনা যায়। ঈশানের মা সুচিত্রা দেবী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন বিয়ে নিয়ে ভাবার সময় নয়। তাঁর বক্তব্য, এই বয়সে বিয়ে নয়, ছেলের উচিত পুরো মনোযোগ ক্রিকেটে দেওয়া।
একজন মা হিসেবে তাঁর কথাটা খুব অস্বাভাবিকও নয়। ধরো, তোমার বড় পরীক্ষা সামনে। সেই সময় বাড়িতে যদি বিয়ের আলোচনা শুরু হয়, তাহলে কি মন বসবে? ঠিক তেমনই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলতে নামা একজন ক্রিকেটারের জন্য এখন ফোকাসটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মাঠের পারফরম্যান্সই আসল কথা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঈশানের প্রত্যাবর্তন সত্যিই নজরকাড়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ধারাবাহিক রান। আগ্রাসী শট, নির্ভীক মানসিকতা—সব মিলিয়ে তিনি যেন নতুন রূপে ধরা দিয়েছেন।
সম্প্রতি আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ১৭ ধাপ এগিয়ে প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এটা কিন্তু ছোট সাফল্য নয়। এত দ্রুত উপরে ওঠা মানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। অনেকেই বলছেন, আগের সেই ‘অবাধ্য’ তকমা ঝেড়ে এখন তিনি আরও পরিণত।
ক্রিকেটে যেমন তিনি ভয়ডরহীন ইনিংস খেলেন, পার্টির নাচেও তেমনই প্রাণখোলা। কেউ কেউ বলছেন, এই স্বতঃস্ফূর্ততাই তাঁর আসল শক্তি। জীবনকে উপভোগ করতে জানেন বলেই হয়তো মাঠেও চাপ সামলাতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া কখনও কখনও গল্প বানাতে ভালোবাসে। একটা ভিডিও মানেই সম্পর্ক, একটা ছবি মানেই প্রেম—এমন ধারণা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বাস্তব জীবন অনেক বেশি জটিল, আবার অনেক সময় খুবই সহজ।
ঈশান এবং অভিষেক একই দলে খেলেন। দলের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকাই স্বাভাবিক। বন্ধুর পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মেশাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবু নেটিজেনদের কৌতূহল থামছে না। কেউ বলছেন নতুন প্রেম, কেউ বলছেন নিছক বন্ধুত্ব।
ভারতীয় দল সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামার আগে একটু বিরতি পেয়েছে। বড় টুর্নামেন্টে এই ধরনের ব্রেক খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে সতেজ রাখে। সারাদিন অনুশীলন, ম্যাচ, কৌশল—সব মিলিয়ে প্রচণ্ড চাপ থাকে।
এই অবস্থায় এক সন্ধ্যার পার্টি, কিছু হাসি-ঠাট্টা, একটু নাচ—এগুলো হয়তো অনেক বড় ওষুধের মতো কাজ করে। মানসিক চাপ কমলে মাঠেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ঈশান কিষাণের জীবনে সত্যিই কি নতুন সম্পর্কের সূচনা হলো? নাকি এটা শুধুই এক নির্ভার মুহূর্তের ভিডিও, যা সোশ্যাল মিডিয়া অতিরঞ্জিত করছে?
উত্তরটা সময়ই দেবে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—মাঠে তিনি যেভাবে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন, তাতে ভারতীয় দলের জন্য তিনি বড় সম্পদ। ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জন থাকতেই পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর ব্যাটই শেষ কথা বলবে।
আমরা যারা দর্শক, আমাদের কাজ উপভোগ করা। ক্রিকেটে তাঁর দাপুটে ইনিংস যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি মাঠের বাইরের এই হালকা মুহূর্তও মনে করিয়ে দেয়—তারকারাও আসলে আমাদের মতোই মানুষ। তারা কাজ করে, হাসে, নাচে, আবার নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নেয়।


