বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের চেতনার বাতিঘর। অন্যায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দীর্ঘ পথে সাহস জুগিয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনতা শহীদ মিনারে গেছে। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তীতে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ মিনারে গেছে জনতা। শহীদ মিনারে গিয়ে মানুষ সাহস সঞ্চয় করেছে, উজ্জীবিত হয়েছে।
আমরা যখন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি, তখন আমরাও শহীদ মিনারে গিয়েছি, শপথ নিয়েছি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও মানুষ শহীদ মিনারে গিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শপথ নিয়েছে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ছাত্ররা ডাক দিয়েছিল।
কিন্তু আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিল। এ অঞ্চলের মানুষ শান্তিপূর্ণ। এই শান্তিপ্রিয় মানুষের উপর দিনের পর দিন অন্যায় অত্যাচার হতে থাকলে, মানুষ কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেই শিক্ষা একনায়ক, ফ্যাসিস্টরা পেয়েছে। সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাহস জুগিয়েছে শহীদ মিনার।
যশোরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বাংলা ভাষা আমরা কতটুকু শুদ্ধভাবে বলতে জানি, লিখতে জানি, সেটাও নিয়ে সংকট আছে। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও কতটুকু জানেন সেটাও সংকট আছে। নিজের ভাষা ভালো করে জানবো, পাশাপাশি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্য ভাষা শিখতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেছিল, স্কুল পর্যায় থেকে বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় শিক্ষা দিতে চাই। সেটা জার্মান, কোরিয়ান, চাইনিজ যেকোন ভাষা হতে পারে। সেই ভাষা শিখে উচ্চ শিক্ষার জন্য ওই সব দেশে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, প্রেসক্লাবের সভপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ। আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।



