প্রায় দু’দশক অপেক্ষার পর আবার ভারতে আসছেন বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা Shakira। শেষবার তিনি ২০০৭ সালে এ দেশে এসেছিলেন। তারপর কেটে গেছে লম্বা ১৯ বছর। এতদিন ধরে অসংখ্য ভারতীয় ভক্ত শুধু আশা করে গেছেন—কবে আবার তাঁকে লাইভ মঞ্চে দেখা যাবে! অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে ২০২৬ সালের এপ্রিলে।
শাকিরা মানেই শুধু গান নয়, এক অন্যরকম মঞ্চ অভিজ্ঞতা। আলো, সাউন্ড, এনার্জি আর তাঁর বিখ্যাত নাচ—সব মিলিয়ে একেবারে চোখ ধাঁধানো আয়োজন। এবার সেই অভিজ্ঞতা আবার উপভোগ করতে পারবেন ভারতের দর্শক।
আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬, মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক Mahalaxmi Racecourse-এ অনুষ্ঠিত হবে শাকিরার প্রথম কনসার্ট। বড় খোলা মাঠ, হাজার হাজার দর্শক, আর তার মাঝে শাকিরার লাইভ পারফরম্যান্স—ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়।
মুম্বই বরাবরই আন্তর্জাতিক শিল্পীদের পছন্দের শহর। এখানে বড় মাপের কনসার্ট আয়োজনের পরিকাঠামোও শক্তিশালী। তাই এই ভেন্যু বেছে নেওয়া একদম স্বাভাবিক। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি স্ক্রিন এবং স্পেশাল লাইটিং ইফেক্ট থাকবে এই শোতে।
মুম্বইয়ের পর ১৫ এপ্রিল ২০২৬ দিল্লির বিখ্যাত Jawaharlal Nehru Stadium-এ মঞ্চে উঠবেন শাকিরা। বিশাল স্টেডিয়াম, হাজার হাজার দর্শক, আর লাইভ ব্যান্ড—সব মিলিয়ে রাজধানীতে হতে চলেছে এক স্মরণীয় সন্ধ্যা।
দিল্লির দর্শকরাও বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন তাঁর লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে শাকিরা মানেই এনার্জি, নাচ আর একের পর এক হিট গান।
শাকিরার এই লাইভ কনসার্টের টিকিট বুকিং শুরু হবে ১ মার্চ ২০২৬ থেকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই প্রধানত টিকিট বিক্রি হবে বলে জানা গেছে।
টিকিটের নির্দিষ্ট মূল্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীর কনসার্ট হওয়ায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আলাদা আলাদা দাম থাকবে—যেমন জেনারেল এন্ট্রি, প্রিমিয়াম জোন, ভিআইপি পাস ইত্যাদি। আগের আন্তর্জাতিক কনসার্টগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, দাম সাধারণত কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে প্রিমিয়াম সিটের ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
যাঁরা প্রথম দিনেই টিকিট বুক করবেন, তাঁদের জন্য আগাম অফার বা প্রি-সেল সুবিধাও থাকতে পারে। তাই বুকিং শুরুর তারিখ মাথায় রাখা জরুরি।
শাকিরা শুধু একজন গায়িকা নন, তিনি এক পূর্ণাঙ্গ পারফর্মার। গান গাওয়ার সময় তিনি যেভাবে নাচেন, সেটা তাঁর স্বাক্ষর। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত ‘হিপ মুভমেন্ট’ বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
‘ক্যুইন অফ ল্যাটিন মিউজিক’ নামে পরিচিত এই শিল্পী তাঁর কণ্ঠস্বর, নাচ এবং মঞ্চ দখল করার ক্ষমতায় লাখো মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। “Hips Don’t Lie”, “Waka Waka”, “Whenever, Wherever”–এর মতো গান আজও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। লাইভ শোতে তিনি এই গানগুলো পরিবেশন করলে পুরো স্টেডিয়াম একসঙ্গে গলা মেলায়—একটা অদ্ভুত রোমাঞ্চ তৈরি হয়।
ভাবুন তো, হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে একই গান গাইছে, আর সামনে শাকিরা নিজে পারফর্ম করছেন—এই অনুভূতিটা ভিডিওতে দেখলে যেমন লাগে, সামনে বসে দেখলে সেটা কয়েক গুণ বেশি।
২০০৭ সালের সফরের পর ভারতীয় ভক্তরা বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন আবার আসার জন্য। এতদিন পরে অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে।
এই ১৯ বছরে শাকিরার ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন, বিশ্বজুড়ে ট্যুর করেছেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয় থেকেছেন। তাই এবারের কনসার্ট শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং পুরোনো ও নতুন—দুই প্রজন্মের মিলনমেলা হতে চলেছে।
ভারতে আন্তর্জাতিক কনসার্টের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবুও শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকার আগমন আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে।
যাঁরা আগে কখনও তাঁর লাইভ শো দেখেননি, তাঁদের জন্য এটা দারুণ সুযোগ। আর যাঁরা ২০০৭ সালে তাঁর পারফরম্যান্স দেখেছিলেন, তাঁদের কাছে এটা হবে পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনার মুহূর্ত।
কনসার্টে সাধারণত লাইভ ব্যান্ড, ড্যান্স ট্রুপ, স্পেশাল ইফেক্ট আর সারপ্রাইজ এলিমেন্ট থাকে। শাকিরা প্রায়ই নিজের শোতে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, কখনও মঞ্চে ডাকেনও। ফলে পুরো অনুষ্ঠানটা একেবারে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মতো লাগে।
যদি আপনি কনসার্টে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন। প্রথমত, টিকিট বুকিংয়ের দিন যেন মিস না হয়। দ্বিতীয়ত, ভেন্যুতে পৌঁছানোর সময় পরিকল্পনা করে রাখুন—কারণ বড় কনসার্টে ট্রাফিক ও ভিড় স্বাভাবিক ব্যাপার।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—মোবাইলের চার্জ পুরো রাখবেন! কারণ এমন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি না করলে পরে আফসোস হতে পারে।
১৯ বছর পর শাকিরার ভারতে প্রত্যাবর্তন শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং এক আবেগের নাম। মুম্বই ও দিল্লিতে তাঁর লাইভ পারফরম্যান্স ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে।
এখন শুধু অপেক্ষা ১০ ও ১৫ এপ্রিলের। আলো নিভবে, মিউজিক শুরু হবে, আর মঞ্চে উঠবেন শাকিরা। তারপর? পুরো স্টেডিয়াম গাইবে, নাচবে, আর তৈরি হবে এক স্মরণীয় রাত—যার গল্প বহুদিন বলা যাবে।


