টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একটা ম্যাচ মানেই জীবন-মরণ লড়াই। ভারতের জন্য তো ব্যাপারটা আরও কঠিন। সেমিফাইনালে যেতে হলে শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। আর সেই পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জিম্বাবোয়ে।
সুপার এইট পর্বে সমীকরণ এখন খুব টাইট। একটা ভুল মানেই ছিটকে যাওয়া। তাই এখন অঙ্ক মেলানো ছাড়া উপায় নেই।
গত সোমবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল এবং জিম্বাবোয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে জিম্বাবোয়ে ১০৭ রানে হেরে যায়। শুনতে সাধারণ ফল মনে হলেও, আসল ধাক্কা খেয়েছে ভারত।
কারণ এই বড় জয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রান রেট উঠে গেছে +৫.৩৫০-এ। টি-২০ ফরম্যাটে এত বড় নেট রান রেট মানে প্রায় আধা-পা সেমিফাইনালে।
এখন গ্রুপের শীর্ষে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল অনেকটাই এগিয়ে। আর ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতেই পারেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানের বড় হার ভারতের অবস্থাকে জটিল করেছে। শুধু হার নয়, নেট রান রেট নেমে গেছে -৩.৮০০-এ। টি-২০ ক্রিকেটে এটা খুব খারাপ জায়গা।
ভাবো তো, একটা দৌড়ে সবাই সামনে ছুটছে, আর তুমি শুরুই করলে পিছন থেকে। এখন শুধু দ্রুত দৌড়ালেই হবে না, অন্যদের থেকেও বেশি গতি তুলতে হবে। ভারতের অবস্থাও ঠিক তেমন।
আগামী দুই ম্যাচ জিতলেও যে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ সবকিছু নির্ভর করছে নেট রান রেটের ওপর।
২৬ ফেব্রুয়ারি সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত নামবে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটাই হতে পারে টার্নিং পয়েন্ট।
কিন্তু শুধু জয় পেলেই হবে না। জয়টা হতে হবে বড় ব্যবধানে।
প্রথম কাজ, নেগেটিভ নেট রান রেটকে পজিটিভে তোলা। এটা না পারলে সেমিফাইনালের আশা প্রায় শেষ।
এই পরিস্থিতিতে হিসেব বলছে, ভারত যদি প্রথমে ব্যাট করে, তাহলে জিম্বাবোয়েকে কমপক্ষে ৭৭ রানে হারাতে হবে। তাহলেই নেট রান রেট পজিটিভে উঠবে।
মানে ধরো ভারত ১৮০ রান করল। তাহলে জিম্বাবোয়েকে থামাতে হবে ১০৩ রানের মধ্যে। তবেই সমীকরণ কিছুটা সহজ হবে।
এর কম ব্যবধানে জিতলে লাভ খুব বেশি হবে না।
এখানেই সমীকরণ আরও কঠিন। যদি জিম্বাবোয়ে আগে ব্যাট করে ১৫০ রান করে, তাহলে ভারতকে খুব কম ওভারে লক্ষ্য তাড়া করতে হবে। ধরো ১২-১৩ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে পারলে তবেই বড় লাফ দেওয়া সম্ভব।
কিন্তু টি-২০ ম্যাচে এমন ঝুঁকি নেওয়া সহজ নয়। উইকেট হারালে চাপ আরও বাড়বে।
অনেকে ভাবেন, জিতলেই তো হলো। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে নেট রান রেট বিশাল ফ্যাক্টর।
সহজ করে বলি। তুমি কত রান করলে আর কত রান দিলে—এই দুয়ের গড় ব্যবধানই নেট রান রেট। বেশি ব্যবধানে জিতলে সেটা বাড়ে, বড় ব্যবধানে হারলে কমে যায়।
ভারতের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় হারটাই এখন গলার কাঁটা।
ভারত যদি বড় ব্যবধানে জেতে, তবুও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ফলাফল।
যদি ওদের মধ্যে কেউ হারে, তখন ভারতের সুযোগ বাড়বে। কিন্তু সবাই যদি জিততে থাকে, তাহলে কাজ আরও কঠিন হবে।
এই টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর আক্রমণাত্মক মানসিকতা এখন সবচেয়ে দরকার। পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান, মাঝের ওভারে চাপ ধরে রাখা, আর ডেথ ওভারে নিখুঁত বোলিং—সব কিছু একসাথে করতে হবে।
একটা ম্যাচে ছোট ভুলও বড় মূল্য চুকাতে হতে পারে।
নাম শুনে ছোট দল মনে হতে পারে। কিন্তু টি-২০ ক্রিকেটে যে কোনও দল বিপজ্জনক। বিশেষ করে যখন হারানোর কিছু নেই।
জিম্বাবোয়ে যদি শুরুতেই দু-তিনটা উইকেট তুলে নেয়, তাহলে ভারতের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।
তাই আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই।
টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের সেমিফাইনাল স্বপ্ন এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বড় জয়ের ওপর। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৭৭ রানের জয়, বা দ্রুত রান তাড়া—এই দুয়ের একটাতেই সমীকরণ সহজ হতে পারে।
কিন্তু ক্রিকেট মানেই অনিশ্চয়তা। একটা ওভার, একটা ক্যাচ, একটা সিদ্ধান্ত—সবকিছু বদলে দিতে পারে।
এখন দেখার, ভারত কি চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারে? নাকি নেট রান রেটের অঙ্কেই আটকে যাবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান?


