আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, অঙ্ক আর শেষ বল পর্যন্ত রোমাঞ্চ। আজকের ম্যাচটা যেন তার থেকেও একধাপ বেশি নাটকীয়। শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল আর নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল মুখোমুখি হয়েছে সুপার এইট পর্বে। কিন্তু শুধু এই দুই দল নয়, পর্দার আড়ালে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে আরেকটি দল— পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল।
কারণটা খুব সহজ। আজ নিউজিল্যান্ড জিতলে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মাঠে না খেললেও এই ম্যাচে পাকিস্তান যেন মানসিকভাবে খেলছেই।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: ধসের মুখ থেকে ১৬৮
ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না কিউইদের জন্য। পাওয়ারপ্লে পেরোতেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৮৪ রান, আর হারিয়ে ফেলেছে ৬টি উইকেট। এমন অবস্থায় অনেকেই ভেবেছিলেন, ১০০ রান পেরোনোই হয়তো কঠিন হবে।
ভাবো তো, বন্ধুরা মিলে ক্রিকেট খেলছো, হঠাৎ টপ অর্ডার ভেঙে পড়ল। তখন মনে হয় ম্যাচটাই হাতছাড়া। ঠিক সেই পরিস্থিতি ছিল নিউজিল্যান্ডের।
কিন্তু সেখান থেকেই বদলে যায় ছবিটা। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও ম্যাকঞ্চি সপ্তম উইকেটে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রানের জুটি। এই জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড তোলে ১৬৮ রান।
এখন শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য ১৬৯ রান। টি-২০ ক্রিকেটে এই লক্ষ্য একদম অপ্রাপ্য নয়, তবে চাপের ম্যাচে এই রান তাড়া করা মোটেও সহজ নয়।
ম্যাচ ভেন্যু ও প্রেক্ষাপট
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ICC T20 World Cup 2026-এর সুপার এইট পর্বে। ভেন্যু হিসেবে রয়েছে কলম্বোর ঐতিহ্যবাহী আর প্রেমদাসা স্টেডিয়াম। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচ শুরু হয়েছে।
এই মাঠ সাধারণত স্পিনারদের কিছুটা সুবিধা দেয়। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটারদের ধৈর্য আর বুদ্ধিমত্তা—দুটোই দরকার হবে।
পাকিস্তানের জন্য সমীকরণটা কী?
এখন আসল প্রশ্ন—পাকিস্তানের ভাগ্যে কী লেখা আছে?
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে জায়গা পাকা করে ফেলেছে। ফলে বাকি একটি স্পটের জন্য লড়াইটা জমে উঠেছে।
যদি আজ নিউজিল্যান্ড জিতে যায়, তাহলে পাকিস্তানের জন্য সমীকরণ হয়ে যাবে আরও কঠিন। তখন তাদের শুধু নিজেদের ম্যাচ জিতলেই হবে না, অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
পাকিস্তানকে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতেই হবে। একই সঙ্গে তাদের চাইবে নিউজিল্যান্ড যেন ইংল্যান্ডের কাছে হারে। এমনকি আজকের ম্যাচেও শ্রীলঙ্কা জিতুক—এই প্রার্থনাই করছে পাকিস্তানি সমর্থকেরা।
এক কথায়, নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যের সহায়তাও দরকার তাদের।
নেট রান রেটের হিসাব-নিকাশ
টি-২০ বিশ্বকাপে নেট রান রেট অনেক সময় ভাগ্য নির্ধারণ করে। যদি পয়েন্ট সমান হয়, তখন এই হিসাবই শেষ কথা বলে।
ধরা যাক, নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। তখন পাকিস্তানকে শুধু জিতলেই চলবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে। যাতে তাদের নেট রান রেট দ্রুত বাড়ে।
আবার যদি নিউজিল্যান্ড বাকি দুই ম্যাচেই হেরে যায়, তাহলে সমীকরণ অনেক সহজ হবে। তখন পাকিস্তান শুধু শ্রীলঙ্কাকে হারালেই চলবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—নিউজিল্যান্ড কি টানা জয় পাবে, নাকি হোঁচট খাবে?
শ্রীলঙ্কার সামনে চ্যালেঞ্জ
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামার সময় শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের মাথায় শুধু ম্যাচ জেতার ভাবনা নয়, পুরো গ্রুপের সমীকরণও ঘুরবে।
একদিকে নিজেদের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখা, অন্যদিকে পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণ—দুটোই যেন জড়িয়ে গেছে এই ম্যাচে।
শুরুর কয়েক ওভারে উইকেট না হারিয়ে বড় শট খেলতে পারলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তবে দ্রুত উইকেট পড়লে চাপ বেড়ে যাবে দ্বিগুণ।
ম্যাচের গুরুত্ব কেন এত বেশি?
এই ম্যাচটা শুধু দুই দলের লড়াই নয়। এটা মান-সম্মান, অঙ্ক আর মানসিক শক্তির পরীক্ষা।
নিউজিল্যান্ড জানে, আজ জিততে পারলে তারা এক ধাপ এগিয়ে যাবে। পাকিস্তান বুঝছে, আজকের ফল তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। আর শ্রীলঙ্কা চায় নিজেদের প্রমাণ করতে।
একটা ম্যাচ কতভাবে তিনটি দলের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, এই ম্যাচ তারই উদাহরণ।
শেষ কথা
টি-২০ ক্রিকেটে ১৬৮ রান কখনোই নিরাপদ নয়, আবার খুব সহজও নয়। সবকিছু নির্ভর করবে শ্রীলঙ্কার শুরু আর মিডল অর্ডারের স্থিরতার ওপর।
তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—আজকের ম্যাচের ফলাফল শুধু স্কোরবোর্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে পুরো সুপার এইট পর্বে।
এখন দেখার, শ্রীলঙ্কা কি ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতবে, নাকি নিউজিল্যান্ড তাদের রানের পাহাড় রক্ষা করবে? আর সেই সঙ্গে, পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্ন কি আজই ভেঙে যাবে?
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এর চেয়ে বড় নাটক আর কী হতে পারে!


