যশোরসহ তিন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেড়শ’ পরিবারের মাঝে প্রায় ছয় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেন প্রধান অতিথি বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ হেলমেট ব্যবহারসহ ট্রাফিক আইন মেনে সতর্কতার সাথে গাড়ি চালানোর জন্য চালকদের প্রতি আহবান জানান। বিআরটিএর যশোর সার্কেলের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের মঞ্জুরীকৃত ১৫০ জন ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে দুর্ঘটনায় ৭০ শতাংশ মোটরসাইকেলে ঘটে। ফলে নতুন মোটরসাইকেল বিক্রির সময় ক্রেতাকে ২টি করে বিআরটিএ অনুমোদিত হেলমেট প্রদানের নিয়ম করা হচ্ছে।
এ প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান শুধু আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং মানবিক দায়িত্বও বটে। এ ধরনের আর্থিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নতুন করে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগাবে।’
অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানান এবং এ সহায়তা তাদের বাস্তব জীবনে অনেকটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য করেন।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দেবাশীষ বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা গুরুতর আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে আবেদন যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।
যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরার তিন জেলায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেড়শ’ পরিবারের মাঝে ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে যশোরে ৬৯, মাগুরা ১৯ ও ঝিনাইদহ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ৬২টি চেক দেয়া হয়।



