বকেয়া বেতনের দাবিতে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত গ্রোসারি শপ ‘চালডাল’ ডটকমের কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে পার্কটির ভিতরে ও কার্যালয়ের অভ্যন্তরণে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এসময় পার্কটির বাইরে থাকা কর্মীরা ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে পার্ককর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে কর্মীরা প্রধান ফটক ভাংচুর করে। এতে দুই কর্মী আহত হয়েছেন। পরে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি যেয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দোলনকারীরা জানান, গ্রোসারি শপের পণ্য নিয়ে পার্কটিতে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে ‘চালডাল ডটকম নামে অনলাইন ই কর্মাস প্রতিষ্ঠান। আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে ৮ শতাধিক কর্মী ই কমার্স প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারে চাকুরি করেন।
নিয়মিত অফিস করলেও গত তিন মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। অধিকাংশ কর্মী যশোর শহরে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকুরি করেন। ফলে বেতন না পেয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন। অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের হেনস্তা করা হয়।
সোমবার বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের কল সেন্টারের মোবাইল নিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ফলে কর্মীরা তাৎক্ষুনিক বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ কর্মীরা পার্কটির প্রধান ফটক ভাংচুর করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি মিমাংসার জন্য পুলিশ ও পার্কের ইনভেস্টর এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের পাওনা বকেয়া বেতন পরিশোধ না হলে তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
প্রমি নামে এক কর্মী জানান, ‘আমরা এতোদিন ধরে বেতন পাচ্ছি না; কোন বিক্ষোভও করেনি। মানবতার জীবনযাপন করাতে এখন বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি করতে হচ্ছে। আমরা এখানে যারা কাজ করি; তাদের বৃহৎ একটি অংশ শিক্ষার্থী।
এই বেতন দিয়েই চলতে হয়। কিন্তু কাজ করছি বেতন পাচ্ছি না। বেতন চাইতে গেলে চাকুরি ছেড়ে চলে যেতে বলে। চলে যেতে চাইলেও বেতন দেয় না। আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করে এখানকার কর্মকর্তারা।
আজমীর নামে আরেক কর্মী বলেন, ‘আমাদের এখানে ৮ শতাধিক কর্মী রয়েছে। কেউ ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন চাইতে গেলে কয়েকজনকে মারধরও করার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। রোজা ঈদের আগে বেতন পরিশোধের কথা বলাতেই আমাদের অনেকের চাকুরি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
কারোও কল সেন্টারের ফোনও নিয়ে নিয়েছে। বেতন না দেওয়াতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করাতে বাধা দেওয়াতে এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের বেতন দ্রুত না দিলে আমরা এখান থেকে কেউ যাবো না। এমনকি আমাদের আন্দোলন এভাবে চলবে।’
পার্কটির ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজালাল বলেন, ‘কর্মীদের বিক্ষোভে শুনে আমরা এসেছি। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ দুঃখজনক। বিক্ষোভের বিষয়টি পার্ক কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তারাও আশ্বাস দিয়েছেন কর্মীদের বেতন পরিশোধে চালডাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
চাল ডাল ডট কম যশোরের সহকারী পরিচালক অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমি শুরু থেকে এখানে কাজ করছি। আগে বেতন নিয়ে এমন হয়নি। ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়াতে এই অবস্থা। আমারও এসব কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, ‘বিক্ষোভের খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি সমাধানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’



