সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দাম হঠাৎ করে ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই ঘোষণার পর অনেক মানুষের মনে একটা বড় প্রশ্ন ঘুরছে—এবার কি পেট্রল ও ডিজেলের দামও বাড়বে? বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা চলছে।
তবে সরকারি সূত্র থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে এখনই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিকল্প আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এই প্রণালীতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যখনই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সাধারণ মানুষ প্রথমেই চিন্তা করে জ্বালানির দাম বাড়বে কি না।
সরকারি সূত্রের মতে, ভারতের জ্বালানি মজুত আগের তুলনায় এখন বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু অস্থিরতা থাকলেও দেশের বাজারে তার তেমন প্রভাব পড়বে না।
সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তারা দাবি করছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান মজুত দেশের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভারত বিকল্প পথ ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়েছে।
আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশ হরমুজ ছাড়া অন্য পথ দিয়ে আমদানি করা হত। এখন সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।
অর্থাৎ অন্য পথ দিয়ে তেল আমদানি ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে।
সহজভাবে বললে, যদি একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অন্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতি মাসের শুরুতে সাধারণত রান্নার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়। মার্চ মাসেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল।
সেই সময় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়লেও গৃহস্থালির গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে সংশোধিত দাম ঘোষণা করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার থেকে গৃহস্থালির ব্যবহারের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘোষণার পরই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়—গ্যাসের পর এবার কি পেট্রল-ডিজেলের দামও বাড়বে?
গ্যাসের দাম বাড়ার পরই বিরোধী দল কংগ্রেস কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে।
কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পর্যাপ্ত তেল, গ্যাস এবং সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না।
তার মতে, এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সরকারি সূত্র অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।
তাদের বক্তব্য, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি মজুত বা সরবরাহের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং পেট্রল-ডিজেলের দামে এখনই কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।
সরকার আরও বলছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির দাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, আর তার প্রভাব পড়ে প্রায় সব পণ্যের ওপর।
যেমন ধরুন, ট্রাকে করে সবজি বাজারে আসে। যদি ডিজেলের দাম বাড়ে, তাহলে সেই সবজির দামও বাড়তে পারে।
এই কারণেই মানুষ সবসময় জ্বালানির দামের দিকে নজর রাখে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আশ্বাস দিলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে।
তবে আপাতত সরকারি সূত্র বলছে, দেশে যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং বিকল্প আমদানির পথও খোলা রাখা হয়েছে।
তাই এখনই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিস্থিতি কিছুটা অনিশ্চিত হলেও আপাতত সাধারণ মানুষের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। সরকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।



