শুধু কেন্দ্রীয় কমিটি সচল, দেশজুড়ে সব কমিটি স্থগিত ঘোষণা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত দেশের সব ইউনিটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শাহবাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি বিতর্কিত ঘটনা—রাজধানী ঢাকার গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী আহমেদের বাসায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সংগঠনের পাঁচজন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। ঘটনাটি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বকে নাড়া দেয় এবং এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার, বন্ধ হচ্ছে অপকর্মের সুযোগ
শনিবার রাতে সংগঠনের সংশ্লিষ্ট পাঁচ নেতা ঢাকায় গ্রেফতার হওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আমরা অনেক দিন ধরেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। গতকালের ঘটনা সেই সন্দেহকে বাস্তবে রূপ দিল।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকেই আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরে আর কোনো কমিটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের নেতৃত্বকারীদের বিচ্যুতি, নেতৃত্বে দুর্নীতি
সংগঠনের ইতিহাসে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসেছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অনেকেই বর্তমানে রাজনৈতিক বিভাজনের শিকার হয়েছেন। কেউ চলে গেছেন বিভিন্ন দলীয় মতের ছত্রছায়ায়, কেউ আবার সরাসরি দুর্নীতির সাথে যুক্ত।
রিফাত রশিদ বলেন, “যখন এই কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছিল, তখন আমরা একদল স্বপ্নবান তরুণকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অনেকেই নিজেদের পথ হারিয়েছে। দুর্নীতি, দলবাজি আর চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো একের পর এক আসছে।”
সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, জরুরি সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠন পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। রশিদ বলেন, “আমরা চোখের সামনে সংগঠনের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি দেখতে পাচ্ছি। এই অবস্থায় কার্যক্রম চলতে থাকলে আমরা নিয়ন্ত্রণ হারাবো—এমন আশঙ্কা থেকেই আমরা জরুরি অর্গানোগ্রাম মিটিং ডেকেছিলাম।”
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত দেশের সব কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করা হলো।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে শীঘ্রই
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী হবে, কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে প্রয়োজনীয় আলোচনা চলছে।
রিফাত রশিদ বলেন, “আমরা সংগঠনের ভিত্তি পুনর্গঠনের চিন্তা করছি। সংগঠনের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে এবং নতুন করে কমিটি গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”
সংগঠনের প্রতি আস্থা ফেরাতে হবে
দেশের শিক্ষাঙ্গনে ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের দাবিতে জন্ম নেওয়া এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি আস্থা ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই আস্থায় চিড় ধরিয়েছে। এখন সময় এসেছে, সংগঠন তার হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করুক।


