ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনে জরিমানার মুখে করিম পেট্রোলিয়াম
যশোর শহরের এক নামজাদা গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর “করিম পেট্রোলিয়াম” এবার মুখোমুখি হলো বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের। নকল লোগো ব্যবহার করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল এবং তা বাজারজাত করায় প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান চালানো হয় শহরের কারবালা রোডে
২০২৫ সালের ২৮ জুলাই, দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের কারবালা রোডে করিম পেট্রোলিয়ামের মালিকানাধীন একটি বাড়ির পাশে থাকা গ্যাস গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনা করেন যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান।
অভিযানকালে গোডাউনে অবৈধভাবে রিফিল করা ১৮টি এলপিজি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়, যা স্থানীয় বাজারে নাভানা, বসুন্ধরা, বেঙ্গল-দুবাই ইত্যাদি নামী ব্র্যান্ডের নকল লোগো সম্বলিত অবস্থায় মজুদ ছিল।
বাড়ির ভেতরেই চলছিল বিপজ্জনক রিফিল প্রক্রিয়া
ভোক্তা অধিকার সূত্রে জানা গেছে, করিম পেট্রোলিয়ামের পরিচালক এরশাদুল করিমের পুত্র ইসরাক করিম তার নিজ বাড়ির ভেতরে গোপনে গৃহস্থালীতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস রিফিল করতেন। বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে, কারণ গৃহস্থালী ও যানবাহনের এলপিজি গঠনে ভিন্নতা রয়েছে।
গঠনগত পার্থক্য: এলপিজি ব্যবহারে বড় ঝুঁকি
নাভানার স্থানীয় পরিবেশক আরমান আলী টুটুল জানান, অনেক সময় সাধারণ মানুষ এই গ্যাসের গঠনগত পার্থক্য বুঝতে পারেন না, যার ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে। তিনি বলেন, “নাভানার ৩৩ কেজির সিলিন্ডার বাজারে অনুপস্থিত থাকার পরও বিভিন্ন স্থানে তা পাওয়া যাচ্ছিল। অনুসন্ধানে দেখা যায়, করিম পেট্রোলিয়াম ওই সিলিন্ডার তৈরি করছে নকল লোগো দিয়ে।”
এ ধরনের ভুয়া রিফিল গ্যাস ব্যবহার করলে হতে পারে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এই কাজ শুধু বেআইনি নয়, এটি মানুষের জীবন নিয়ে খেলা।
জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫০ ধারার আওতায়, ইসরাক করিমকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান।
ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ রোধে অধিদপ্তর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার উদ্যোগ নিচ্ছে এবং গোপন নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।


