কলকাতা মেট্রোর নিউ গড়িয়া স্টেশনে পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। একদিকে স্টেশন চত্বরে গঠনগত ত্রুটি ও ফাটল, অন্যদিকে পরিষেবা বন্ধ থাকার খবর সঠিকভাবে না পৌঁছনোয় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতে, নিউ গড়িয়া মেট্রো সংলগ্ন এলাকাগুলির বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা জানাটাই জরুরি।
নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন কেন বন্ধ?
২০১০ সালে উদ্বোধন হওয়া নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন ছিল দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। কিন্তু, সম্প্রতি পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে আপ লাইন সংলগ্ন চারটি পিলারে গুরুতর ফাটল দেখা দিয়েছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ওভারগ্রাউন্ড স্টেশনের কিছু অংশ বসে গিয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মে তৈরি হয়েছে গভীর ফাটল। এই ফাটলের কারণে যাত্রী নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ায় গতকাল দুপুর থেকে পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
বর্তমানে কোথা থেকে কোথায় পর্যন্ত চলছে মেট্রো?
পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে এখন শুধুমাত্র দক্ষিণেশ্বর থেকে ব্রিজি মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পরিষেবা চালু থাকবে।
নিউ গড়িয়া, হেমন্ত মুখার্জি, কবি সুভাষ স্টেশনে পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ। এই অবস্থায় ওই অঞ্চলের যাত্রীদেরকে বিকল্প রুট ও পরিবহনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মেট্রো পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন
নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন মাত্র ১৫ বছর আগেই নির্মিত হলেও এভাবে গঠনগত ত্রুটি ধরা পড়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে মেট্রো রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ মান নিয়ে।
এমন অনেক সাবওয়ে স্টেশন রয়েছে, যেমন — পার্ক স্ট্রিট, ময়দান বা এসপ্ল্যানেড, যেগুলি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ীভাবে পরিষেবা দিচ্ছে। অথচ ওভারগ্রাউন্ড স্টেশন হিসেবে নিউ গড়িয়ায় এত দ্রুত সমস্যা ধরা পড়ায় নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দৈনন্দিন সমস্যা
নিউ গড়িয়া মেট্রো স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন অফিসগামী ও নিয়মিত ট্রেনযাত্রীরা। বিশেষ করে যাঁরা নিউ গড়িয়া মেট্রো থেকে নেমে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন ধরেন, তাঁদের জন্য অন্য বিকল্প খোঁজা এখন নিত্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেক যাত্রী স্টেশনে গিয়ে জানতে পারছেন পরিষেবা বন্ধ, কারণ মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো প্রশস্ত ও কার্যকরী ঘোষণার অভাব রয়েছে। স্টেশনের গেট বন্ধ এবং সিকিউরিটি কর্মীরা স্পষ্ট তথ্য দিতে না পারায় বিভ্রান্তি বাড়ছে।


