ওভালের সবুজ ট্র্যাপে ধরা পড়ল ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ
লন্ডনের ঐতিহাসিক ওভাল মাঠে টেস্ট সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে ভারতের সামনে দাঁড়াল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সবুজ উইকেট ও ঘন মেঘলা আকাশ যেন একত্রে ষড়যন্ত্র করেছিল ভারতীয় ব্যাটারদের বিপক্ষে। দিনের শেষে ২০৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কঠিন অবস্থানে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া। করুণ নায়ার ও ওয়াশিংটন সুন্দর দিনের শেষে অপরাজিত থেকে দলের হাল ধরেছেন, কিন্তু এই পারফরম্যান্স ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
টস হেরে প্রতিকূলতা দিয়েই শুরু ভারতের
সকালে খেলা শুরুর আগেই ওভালের আকাশে জমেছিল কালো মেঘ। সঙ্গে শুরু হয় হালকা বৃষ্টি, যা টসেও দেরি করায়। টস জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওলি পোপ বল করার সিদ্ধান্ত নেন, যা এই পরিস্থিতিতে একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। মেঘলা পরিবেশে বল সুইং করে, এবং সেই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ইংলিশ পেসাররা।
যশস্বী-রাহুল দ্রুত ফিরলেন, শুভমনের ‘ব্রেনফেড’ আউট
ক্রিস ওকস ও গাস অ্যাটকিনসনের বলের সামনে যশস্বী জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুল পড়লেন অসহায়ভাবে। মাত্র ২ রানে যশস্বী এলবিডব্লিউ হন, আর ১৪ রানে প্লেড অন হয়ে ফিরে যান রাহুল। এই দু’টি উইকেট ভারতের টপ অর্ডার ব্যর্থতার প্রমাণ হয়ে রইল।
তবে শুভমন গিলের ব্যাটে কিছুটা আশা দেখা যায়। আগ্রাসী ব্যাটিং ও দৌড়ে রান তোলায় গতি ফেরে ইনিংসে। কিন্তু হঠাৎ করে ম্যাচ পরিস্থিতি না বুঝে একটি অসম্ভব সিঙ্গল নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। মাঝপিচে পৌঁছে থেমে যাওয়া এবং উইকেট হারানো যেন তাঁর অস্থির মানসিক অবস্থাকে স্পষ্ট করে দেয়।
সুদর্শনের ধৈর্য, জাডেজার ব্যর্থতা
নতুন তারকা সাই সুদর্শন ব্যাট হাতে স্থিরতা দেখান। ১০০-র বেশি বল খেলে ৩৮ রানে আউট হওয়া, তাঁর প্রতিরোধের সাক্ষী। তবে জশ টংয়ের বল তাঁর উইকেট কেড়ে নেয়। অন্যদিকে রবীন্দ্র জাডেজা, যিনি গত ম্যাচে শতরান করেছিলেন, মাত্র ৯ রানে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।
করুণ নায়ারের লড়াই: প্রত্যাবর্তনের অগ্নিপরীক্ষা
করুণ নায়ার, দীর্ঘদিন বাদে সুযোগ পেয়ে মাঠে নামলেন শার্দূল ঠাকুরের পরিবর্তে। তিনি জানতেন, এই সুযোগ কাজে না লাগালে আবার বাদ পড়তে হতে পারে। তাই শুরু থেকেই এক ধৈর্যশীল, ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলেন করুণ। ৫২ রান করে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। তাঁর সঙ্গে ব্যাট হাতে রয়েছেন *ওয়াশিংটন সুন্দর (১৯)**, যিনি বল সামলে খেলার চেষ্টা করছেন।
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ বদলেও চাপে রাখল ভারতকে
বেঞ্চ থেকে উঠে আসা গাস অ্যাটকিনসন, জশ টং ও জেমি ওভারটন-এর মতো পেসাররা, অভিজ্ঞ ক্রিস ওকস-এর নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে বল হাতে আগুন ঝরালেন। ওভারটন কিছুটা রান দিলেও, অন্য তিনজন মিলে ভারতীয় ব্যাটিংকে সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। তবে দিনের শেষে অতিরিক্ত ৩০ রান ওভারটনের থেকে আসায় ভারতের রান কিছুটা এগোয়।
প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ার শেষ ভরসা করুণ-সুন্দর জুটি
বর্তমানে দলের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২০৪/৬। হাতে রয়েছে মাত্র ৪ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে করুণ-সুন্দর জুটির দায়িত্ব হবে কমপক্ষে ৩০০-র গণ্ডি পার করে প্রতিপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। এই উইকেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতায় উদ্বিগ্ন টিম ম্যানেজমেন্ট
শীর্ষ তিন ব্যাটার– যশস্বী, রাহুল ও শুভমন একসঙ্গে ব্যর্থ হওয়ায় বড় রানে পৌঁছনোর সম্ভাবনা একপ্রকার শেষ। বিশেষ করে শুভমন গিলের উইকেটটা ভারতের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখন করুণ-সুন্দর জুটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তাঁরা যদি লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের সঙ্গে একটা ভাল জুটি গড়তে পারেন, তবে দ্বিতীয় দিন ভারত কিছুটা খেলায় ফিরতে পারে।
শেষ কথা
ওভালের সবুজ উইকেটের বিপক্ষে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ও ব্যাটারদের অস্থিরতা ভারতকে কঠিন চাপে ফেলেছে। যদিও করুণ নায়ার ও ওয়াশিংটন সুন্দর আশা জাগিয়েছেন, তবুও ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় মানসিকতা ও টেকনিক্যাল সঠিকতা ছাড়া ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।


