যশোরের সাংবাদিকতা অঙ্গনে পারভেজ আলম টিপন একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। সময়ের স্রোত বয়ে গেলেও তাঁর অবদান আজও অম্লান। সাংবাদিকতার সাথে জড়িয়ে থাকা তাঁর অটল ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং সত্য বলার সাহস আমাদের প্রজন্মের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত।
‘দৈনিক রানার’ পত্রিকায় উত্থান
এক সময় যশোর অঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সংবাদপত্র ছিল ‘দৈনিক রানার’। সেই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে পারভেজ আলম টিপনের হাত ধরেই উঠে এসেছে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট। প্রতিদিন পত্রিকার কোন না কোন রিপোর্ট থাকতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, নির্ভীক কলম আর স্পষ্ট ভাষাই পত্রিকাটিকে পৌঁছে দেয় সাধারণ মানুষের কাছে।
সাংবাদিকতায় নীতি ও আদর্শের অনন্য দৃষ্টান্ত
যখন অর্থ আর প্রভাবশালী মহলের চাপে অনেকেই নৈতিকতা বিসর্জন দেন, তখন টিপন ভাই আপসহীন মনোভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সত্যের পক্ষে। কোনো প্রলোভন, ভয়ভীতি কিংবা রাজনৈতিক চাপে তাঁর কলম থামানো যায়নি। তাঁর লেখা রিপোর্ট বারবার প্রমাণ করেছে—সাংবাদিকতা মানে শুধু খবর ছাপা নয়, বরং সমাজের আয়না হয়ে দাঁড়ানো।
ছাত্র জীবনে আমাদের কাছে টিপন ভাই
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে আমাদের মতো হাজারো শিক্ষার্থী যখন স্বপ্ন বুনতে শিখছিল, তখনই তাঁর স্পর্শে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। ফি পরিশোধের বইতে তাঁর পরিচ্ছন্ন হস্তাক্ষর, বিনয়ী ব্যবহার আর সহানুভূতিশীল আচরণ এখনও অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। সেই হস্তাক্ষরের মতোই ছিল তাঁর পরিচ্ছন্ন মন।
সাংবাদিকতা থেকে অবসর, কিন্তু নাম অমলিন
আজ তিনি সাংবাদিকতা ছেড়েছেন, কিন্তু পেশার প্রতি নিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে সরে আসেননি। এখন তিনি বেনাপোল বাজারে কিছু জাতীয় দৈনিক পত্রিকার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর জীবনযাপন একেবারেই সাদামাটা, শহরের কোলাহল থেকে দূরে, খুব সাধারণ মানুষের মতোই। তবু মানুষের মুখে মুখে আজও ঘুরে বেড়ায় তাঁর সততার গল্প।
পারভেজ আলম টিপন: যশোরের সাংবাদিকতায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
যশোরে যারা সাংবাদিকতা শিখতে আসছেন, তাঁদের অনেকেই টিপন ভাইকে রোল মডেল হিসেবে দেখেন। তাঁর থেকে শেখার মতো সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—অর্থ বা পদমর্যাদা নয়, সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা-ই একজন সাংবাদিকের আসল পরিচয়।
বিনয়ের ছাপ তাঁর প্রতিটি আচরণে
টিপন ভাইয়ের সাথে যারা একবার কথা বলেছেন, তাঁরা জানেন তাঁর নিমগ্নতা আর বিনয়ের গভীরতা কতটা অনন্য। বড় পদ, প্রভাবশালী অবস্থান সত্ত্বেও কোনোদিন অহংকার স্পর্শ করতে পারেনি তাঁকে। এ কারণেই হয়তো সমাজের সব স্তরের মানুষ তাঁকে সহজে কাছে টেনে নিতে পেরেছে।
যশোর অঞ্চলে সাংবাদিকতার নীরব বিপ্লব
টিপন ভাইয়ের নেতৃত্বে ‘দৈনিক রানার’ হয়ে উঠেছিল যশোর অঞ্চলের নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্র। সে সময়ের প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি, সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা—সবই উঠে এসেছে তাঁর রিপোর্টে। তাঁর প্রতিবেদনগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আলোড়ন তুলেছিল বহুবার।
স্মৃতির পাতা থেকে কিছু গল্প
যশোর শহরের মানুষ এখনও গল্প করে, কিভাবে টিপন ভাই নিজের রিপোর্টিংয়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন। রাতের আঁধারে খবর সংগ্রহ, ক্ষমতাধরদের মুখোমুখি হয়ে সত্য উন্মোচন—সবই করেছেন নির্ভীক চিত্তে। এই সাহসিকতা আজকের দিনে বিরল।
টিপন ভাইয়ের জন্মদিনে প্রার্থনা
আজ সেই প্রিয় মানুষের জন্মদিনে আমরা তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। যশোরের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি একজন নিভৃতচারী সত্যসন্ধানী মানুষ হয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাঁর মতো সাংবাদিকের প্রয়োজন সমাজের প্রতিটি কোণায়।
আমাদের দায়িত্ব
আমরা যারা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকতা নিয়ে ভাবছি, তাঁদের উচিত টিপন ভাইয়ের মতাদর্শ বুকে ধারণ করা। সাংবাদিকতা হোক প্রভাবের নয়, হোক সত্যের পক্ষে মানুষের কণ্ঠস্বর।
শেষ কথা
টিপন ভাইয়ের সরল জীবন, আপসহীন পেশাদারিত্ব আর নির্লোভ নিষ্ঠা আমাদের সমাজের জন্য এক দীপ্ত আলোকবর্তিকা। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে যশোরের সাংবাদিকতা এক নতুন পথ দেখাবে, নতুন যুগ সৃষ্টি করবে—এই আমাদের প্রত্যাশা।
শুভ জন্মদিন পারভেজ আলম টিপন ভাই। আপনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। সমাজ আপনাকে শ্রদ্ধা করবে, মনে রাখবে।
––সাজেদ রহমান,যশোর।


