গুলশানে হাতেনাতে ধরা পড়ল চাঁদাবাজ চক্র
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ পাঁচজন। গুলশান থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
রিয়াদের বাসা থেকে উদ্ধার আড়াই কোটির চেক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ধৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিয়াদের ধানমন্ডির বাসায় অভিযান চালিয়ে দুই কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এই চেকটি আগামী মাসের ২ তারিখে নগদ হওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, রিয়াদের ঘরে পাওয়া গেছে একাধিক এফডিআরের নথি, যার প্রতিটিতে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা করে রাখা আছে।
গোপন চুক্তি ও কোটি টাকার লেনদেন
পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যবসায়ীর জমি উদ্ধারের নামে রিয়াদের সঙ্গে পাঁচ কোটি টাকার গোপন চুক্তি হয়। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই আড়াই কোটির চেকটি রিয়াদের কাছে আসে। শুধু তাই নয়, রিয়াদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সম্প্রতি ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা কারা?
২৬ জুলাই গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা আদায়ের সময় ধরা পড়েন পাঁচজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২), সাদমান সাদাব (২১), মো. আমিনুল ইসলাম (১৩), ইব্রাহীম হোসেন (২৪) এবং মূল হোতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫)। রিয়াদ নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা হলেও থাকতেন ঢাকার ধানমন্ডির নিউ মডেল এলাকায়। ইব্রাহীম ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক এবং চাঁদপুরের রামদাসদী গ্রামের বাসিন্দা। আমিনুল ঢাকার বাড্ডার আলাতুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র।
সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও কমিটি স্থগিত
চাঁদাবাজির ঘটনায় সংগঠনটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার পরপরই তিনজনকে বহিষ্কার এবং কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত দেশের সব কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি রিফাত রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ছাত্র সংগঠন অপরাধের দায় স্বীকার করে দেশব্যাপী কমিটি স্থগিত করল।’
আদালতের রিমান্ড ও মামলার অগ্রগতি
ঘটনার পর গুলশান থানা পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—রিয়াদ, ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকালে রিয়াদ ও অপু নামে একজন শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। টাকা দিতে না চাইলে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকা আদায় করে নিয়ে যায় চক্রটি। এরপর ২৬ জুলাই পুনরায় বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে গেলে পুলিশ তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
রাজনীতির আড়ালে অপরাধের শেল্টার
সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন, ‘অনেকেই রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করছি, বৈছাআর ব্যানার ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নিন।’
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর বার্তা
এ ঘটনায় চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট। গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় এই ধরনের অপরাধ সমাজে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পুলিশ জানিয়েছে, রিয়াদের বিরুদ্ধে নতুন করে কলাবাগান থানায়ও মামলা করা হচ্ছে।


