ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক আরোপের ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমেরিকার বাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম থেকে শুরু করে প্রযুক্তি খাত পর্যন্ত, এই শুল্কের প্রভাব এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে এবং সাধারণ ক্রেতাদের খরচের চাপও দ্রুত বাড়ছে।
ভারত থেকে আমেরিকায় বিপুল পরিমাণে পণ্য রফতানি হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পোশাক ও টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার সেবা, যানবাহনের যন্ত্রপাতি ও শিল্পাঞ্চলের রাসায়নিক ও কাঁচামাল।
এই পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হওয়ায় খুচরো বাজার থেকে শুরু করে উৎপাদন শিল্প—দুই ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। ফলে সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে মার্কিন জনগণের দৈনন্দিন জীবনে।
ভারত আমেরিকার জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের অন্যতম বড় সরবরাহকারী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার ব্যবহৃত মোট ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশ ভারত থেকে আসে। এখনো পর্যন্ত এই খাত শুল্কমুক্ত রাখা হলেও, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন—যদি এই ছাড় প্রত্যাহার করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ, বিমার প্রিমিয়াম এবং হাসপাতালের বিল মারাত্মক হারে বেড়ে যাবে। এতে সরাসরি ভোগান্তি হবে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের।
আমেরিকার অনেক সংস্থা তাদের উৎপাদন কাঁচামাল ও সহায়ক সরঞ্জামের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন শুল্ক নীতির কারণে এই সরবরাহ শৃঙ্খল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।রাসায়নিক শিল্প, বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদন ও প্রযুক্তি নির্ভর খাত।
এসব ক্ষেত্রেই এখন দেরি ও ব্যয়ের বোঝা বাড়ছে। মার্কিন সংস্থাগুলো ভারতের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে, কিন্তু অন্য দেশ থেকে একই পণ্য কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা কমছে।
শুধু শুল্ক নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর ভিসা নীতি ভারতীয় আইটি খাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজনের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের উপর নির্ভরশীল। ভিসা জটিলতার কারণে ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিতে পড়তে পারে, যা আমেরিকার প্রযুক্তি খাতের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ভারতের পণ্যে শুল্ক কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শেয়ারবাজারে ধস নামতে শুরু করে। ভারতের শেয়ারবাজারে আমেরিকাসহ বহু বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। শুল্কের কারণে এই বিনিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই শুল্ক-যুদ্ধ সাময়িক এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা সম্ভব।
রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত খনিজ তেল কিনছে, সেটাকেই যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে পরোক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধকে সহায়তা করছে। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, একই পরিস্থিতিতে চীনের উপর কেন কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি। এই বৈপরীত্যও এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


