ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সবসময় দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আলী হুসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিটকারীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তে ঢাবি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ওই নির্বাচনের সময় ঢাবি ছাত্র শিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়। রিট দাখিলকারীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল গণধর্ষণের হুমকি।
এই হুমকির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলী হুসেনকে চিহ্নিত করে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত শুরু করে।
বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যানুসন্ধান কমিটি তাদের তদন্ত সম্পন্ন করে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলী হুসেনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডারের অধীনে প্রক্টরের এখতিয়ারভুক্ত সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে এই বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।শিক্ষার্থীর নাম: আলী হুসেন, বিভাগ: সমাজবিজ্ঞান, সেশন: ২০২০-২০২১, শ্রেণি রোল: ৫৪, রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২০২০২১২৭৬৮, আবাসিক হল: শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু বহিষ্কারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আলী হুসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই কমিটি আলাদাভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি সত্যিই গণধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন, তবে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাটিকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।কিছু শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সঠিক এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী মনে করেন, বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার ছিল যাতে কেউ অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত না হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই যৌন হয়রানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। এই ঘটনার পর প্রশাসন আরও কঠোরভাবে শৃঙ্খলা রক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা ক্যাম্পাসে হুমকি, সহিংসতা বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


