বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আর যারা এ প্রক্রিয়া বয়কট করবে, তারা ভবিষ্যতে রাজনীতির মঞ্চে জায়গা হারাবে। তার মতে, জনগণ এখন গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করা শক্তিকে চিহ্নিত করতে শিখেছে।
১৪ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচন নিয়ে যারা শর্ত দিচ্ছেন— দাবি পূরণ না হলে হবে না, সংস্কার না হলে হবে না, বিচার না হলে হবে না— এসব শুধু মাঠের বক্তব্য। বাস্তবতা হলো, নির্বাচন যথাসময়ে, ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি জোর দিয়ে জানান, নির্বাচনের পরিবেশ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, এবং এ বিষয়ে জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে জানিয়েছেন যে, যেসব সংস্কার প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী সংসদ পদক্ষেপ নেবে। বিএনপিও এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তার ভাষায়, ভোটাধিকার হলো জনগণের দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত সবচেয়ে বড় অধিকার। তিনি মনে করেন, সেই অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যারা এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করবে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।“গণতন্ত্রের পথে যে কোনো বাধা জনগণই সরিয়ে দেবে”— এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানান, বিএনপি ইতোমধ্যে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করেছে। দলটি সেইসব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই জোট করবে, যারা যুগপৎ আন্দোলনে তাদের পাশে ছিল। তার মতে, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এখন জরুরি।
গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন,“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী জোট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন বয়কটের চেষ্টা করবে, তারা ভবিষ্যতে রাজনীতিতে জায়গা হারাবে। জনগণ এমন কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে আর গ্রহণ করবে না, যারা গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন, একইসঙ্গে বয়কট রাজনীতির বিপদও তুলে ধরেছেন।


