বগুড়ার রাজনীতিতে এখন একটাই আলোচনা—সাতটি আসনেই এগিয়ে আছে বিএনপির প্রার্থীরা। ধানের শীষ প্রতীক যেন জয়ের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছে। আংশিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, জেলার প্রতিটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া আংশিক ফলাফলে এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। যদিও এটি চূড়ান্ত ফল নয়, তবুও প্রাথমিক হিসাবেই বোঝা যাচ্ছে—বগুড়ার ভোটের মাঠে ধানের শীষের প্রভাব বেশ শক্তিশালী।
সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৬টি। এর মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এই ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ২৩ হাজার ৭০৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন পেয়েছেন ৯ হাজার ৪২৪ ভোট।
এখানে ভোটের ব্যবধান বেশ বড়। প্রাথমিক ফলাফলই বলে দিচ্ছে, এই আসনে বিএনপির অবস্থান বেশ শক্ত।
শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ আসনে মোট ১১৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে বিএনপির মীর শাহে আলম ৫ হাজার ২৯০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫০ ভোট।
যদিও অল্প সংখ্যক কেন্দ্রের ফল এসেছে, তবুও ভোটের ব্যবধান এখানে স্পষ্টভাবে বিএনপির পক্ষে ঝুঁকে আছে।
দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৩ আসনে মোট ১১৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। আটটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির আবদুল মহিত তালুকদার পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নূর মোহাম্মদ আবু তাহের পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ ভোট।
এই আসনে লড়াই তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। তবে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীই।
কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসনে মোট ১১৪টি কেন্দ্র রয়েছে। ২৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ৩৩ হাজার ১৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোস্তফা ফয়সাল পেয়েছেন ২৩ হাজার ৫৫৯ ভোট।
এখানে ব্যবধান প্রায় দশ হাজার ভোটের কাছাকাছি। যা বিএনপির জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে মোট ১৮৮টি কেন্দ্র রয়েছে। পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দবিবুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৯৯ ভোট।
এখানেও দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ আসনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এখানে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ২৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবিদুর রহমান পেয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৮ ভোট।
এই আসনে ভোটের ব্যবধান দ্বিগুণের কাছাকাছি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সদর আসনে এই লিড বিএনপির জন্য বড় বার্তা বহন করে।
গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭ আসনে মোট ১৭৩টি কেন্দ্র রয়েছে। ৫৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির মোরশেদ মিল্টন পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৫৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৭০ ভোট।
এই আসনে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। যা দেখেই বোঝা যায়, বিএনপি এখানে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
বগুড়ার সাতটি আসনের আংশিক ফলাফল বলছে, জেলার ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন। যদিও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি বিএনপির জন্য ইতিবাচক।
বগুড়া জেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যে দল শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে, জাতীয় রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই এই ফলাফল শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বগুড়ার সাত আসনে ধানের শীষ প্রতীক এখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে। সামনে চূড়ান্ত ফলাফল এলেই বোঝা যাবে—এই অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত বিজয়ে রূপ নেয় কি না। তবে আংশিক ফলাফলই বলে দিচ্ছে, বিএনপি প্রার্থীরা এই মুহূর্তে শক্ত অবস্থানে আছেন এবং ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন।


