যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে আবারও বদলের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে উন্নয়ন থেমে ছিল, সেই উন্নয়নের ধারাকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে মানুষ তাকিয়ে আছে ধানের শীষের দিকে। ইউনিয়নের গ্রাম থেকে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধর্মীয় উপাসনালয়—সব জায়গাতেই একই কথা শোনা যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধি মানে আরাম-আয়েশ নয়, জনপ্রতিনিধি মানে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনা।
ইছালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলছে, অতীতে যখনই তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, তখনই এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। রাস্তাঘাট হয়েছে চলাচলের উপযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেয়েছে নতুন ভবন, ঘরে ঘরে জ্বলেছে বিদ্যুতের আলো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তারা আবারও আস্থা রাখতে চাইছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর।
ইছালী ইউনিয়নের মানুষের মুখে বারবার উঠে আসে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের নাম। কারণ, তার নেতৃত্বেই এই অঞ্চলে এক সময় উন্নয়নের বাস্তব চিত্র দেখা গিয়েছিল। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে আগে অন্ধকার নেমে আসত সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে, সেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছিল তার হাত ধরেই। শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে গড়ে উঠেছিল নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রাম থেকে বাজারে যাওয়ার কাঁচা রাস্তা বদলে গিয়েছিল পাকা সড়কে।
স্থানীয়দের মতে, তরিকুল ইসলাম শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই থেমে থাকেননি। মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। ফলে মুসলমান, হিন্দু—সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেই তিনি ছিলেন আস্থার প্রতীক।
ইউনিয়নের মানুষ আজ যে হতাশার কথা বলছে, তার মূল কারণ দীর্ঘ ১৭ বছরের উন্নয়নবঞ্চনা। এক সময় যে রাস্তাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেগুলো সংস্কারের অভাবে এখন ভেঙে পড়েছে। ব্রিজ-কালভার্টগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্কুল ভবন আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব স্পষ্ট।
কয়েতখালী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, এক সময় এই গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। তরিকুল ইসলামই প্রথম আমাদের ঘরে আলো জ্বালান। তিনি এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ এত বছর পর সেই স্কুলে নতুন করে কিছুই যোগ হয়নি।
একই গ্রামের সনাতন ধর্মের বাসিন্দা দুলালী রানীর কথায়ও রয়েছে একই সুর। তিনি জানান, মন্দির নির্মাণের সময় তরিকুল ইসলাম নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। তার দাবি, উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
জোত রহিমপুর ও ফুলবাড়ীয়া গ্রামের মানুষ এখনও স্মরণ করে তরিকুল ইসলামের অবদান। এই দুই গ্রামের মধ্যে সংযোগ সেতু নির্মাণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন তৈরি, গ্রামের ভেতরের চলাচলের রাস্তা উন্নয়ন—সবই হয়েছিল তার সময়েই। আফজাল হোসেন বলেন, এরপর আর তেমন কোনো উন্নয়ন আমরা দেখিনি। নতুন করে কিছু না হলে এই গ্রামগুলো আরও পিছিয়ে পড়বে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ অবহেলিত। কোথাও শ্রেণিকক্ষ সংকট, কোথাও নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। অথচ এক সময় এই ইউনিয়ন ছিল শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পথে।
সোমবার দিনভর ইছালী ইউনিয়নের পথে-প্রান্তরে মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বাজার থেকে গ্রাম, মোড় থেকে মহল্লা—সবখানেই মানুষ তাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেয়। কোথাও নির্বাচনী সভা, কোথাও সরাসরি মানুষের কথা শোনা। এই গণসংযোগে স্পষ্ট হয়ে ওঠে মানুষের প্রত্যাশা।
মানুষ বলছে, তারা আর ভোটারবিহীন জনপ্রতিনিধি চায় না। তারা এমন একজন প্রতিনিধি চায়, যিনি ভোটের শক্তিতে নির্বাচিত হয়ে এলাকার দায় নেবেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আপনারাই আমার পিতাকে ভোট দিয়ে এমপি ও মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ বছর আপনারা সেই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কারণ আপনাদের ভোট ছাড়াই কেউ কেউ জনপ্রতিনিধি হয়েছিল।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সুযোগ পেলে ইছালী ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো তিনি শেষ করবেন। রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কালভার্ট—সবখানেই উন্নয়ন ফিরবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই এলাকায় আর কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। মানুষ নিরাপদে চলবে, শান্তিতে বসবাস করবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বক্তব্যে একটি বিষয় বারবার উঠে আসে। জনপ্রতিনিধি মানে নিজের ভাগ্য গড়া নয়। জনপ্রতিনিধি মানে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা। তিনি বলেন, বিগত দিনে সরকারি সুযোগ-সুবিধা একটি দলের নেতাকর্মীরা ভোগ করেছে।
ভবিষ্যতে সেই সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। রাজনীতি হবে মানুষের জন্য।
এই কথা শুনে অনেকেই বলছে, আমরা এমন কথাই শুনতে চেয়েছিলাম। আমরা এমন প্রতিনিধিই চাই, যিনি আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন।
হাশিমপুর বাজারে প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিএনপি নেতা শহীদ খলিলুর রহমান, শহীদ কোহিনূর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতলেবসহ সকল প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এরপর পাঁচবাড়িয়া মৌলভী বাড়ির হযরত মাওলানা চাঁদ শাহ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
এই আয়োজন মানুষের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। কারণ, এতে ছিল ইতিহাসের প্রতি সম্মান আর আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।
দিনভর মনোহরপুর বাজার, হুদার মোড়, রাজাপুর, নগরপুর, গাঁওঘরা, কিসমত রাজাপুর, পাঁচবাড়িয়া, এনায়েতপুর, ইছালী, কামারগন্যা, রামকৃষ্ণপুর, কুতুবপুর ও সুড়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় গণসংযোগ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এই উপস্থিতি মানুষকে আশ্বস্ত করেছে। তারা বলছে, দীর্ঘদিন পর আমরা আবার সংগঠিত রাজনীতি দেখছি। আমরা আবার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি।
সব মিলিয়ে ইছালী ইউনিয়নের মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। তারা চায় উন্নয়ন, চায় নিরাপত্তা, চায় সম্মান। তারা বিশ্বাস করতে চাইছে, জনপ্রতিনিধি যদি সত্যিই মানুষের জন্য কাজ করেন, তাহলে বদল আসবেই।
ধানের শীষকে ঘিরে এই প্রত্যাশা শুধু একটি প্রতীক নয়। এটি ইছালী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। মানুষ এখন অপেক্ষায় আছে সেই দিনের জন্য, যেদিন জনপ্রতিনিধি মানে হবে ভোগ-বিলাস নয়, সত্যিকারের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নাম।


