এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ শটগানে শুধুমাত্র রাবার বুলেট ব্যবহার করবে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল হক। মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপাররের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, শটগানে সাধারণত দুই ধরণের অ্যাম্বুশন ব্যবহার করা হয়।
একটি রাবার বুলেট, অপরটি লিফবল (মেটাল)। লিফবল বুলেট ব্যবহারে মানুষের শরীরে বিদ্ধ হলে আক্রান্ত বেশি হয়। কোন মানুষকে ইনজুরি (আক্রান্ত) করা আমাদের লক্ষ্য নয়। বিশৃংখলা হলে আগে দুই রকমের বুলেটই ব্যবহার করা হতো। এবার টোটালি লিফবল বুলেট ব্যবহার করা হবে না।
আমরা মেটাল (লিফবল) বুলেট ইস্যু করিনি। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের জন্য এবার শুধুমাত্র রাবার বুলেট ইস্যু করা হয়েছে। রাবার বুলেটও যেন আমাদের ব্যবহার করতে না হয়, সেই দোয়া করবেন। তারপরেও যদি কোন কেন্দ্র আক্রান্ত, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা ভোটাররা আক্রান্ত হন, তখন সিআরপিসি ও বিআরবি বিধি বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতীতে প্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশের ঘুসের খাম গ্রহণের যে সংস্কৃতি ছিল, সেটা এবারও থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, খুলনা রেঞ্জে ৬৪টি থানা রয়েছে। এ জাতীয় কোন অভিযোগে কেউ আমাকে রিপোর্ট করেনি।
এই পরিবারের প্রধান মানুষ হিসেবে সহকর্মীদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। প্রফেশনালের বাইরে কারা কাজ করে আমার একটু হলেও ধারণা আছে। ফলে আমার বিশ্বাস কোন সহকর্মী আমাকে ছোট করবে না। তারপরেও যদি কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ থাকে, জানাবেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র প্রসঙ্গে রেজাউল হক বলেন, সব কেন্দ্রই সাধারণ, আবার সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। যখন কোন কেন্দ্রে কোন ঘটনা ঘটে, তখন সেই মুহূর্ত থেকে ওই কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
ঝুঁকি বলতে বোঝা যায় দুর্গম, দুরবর্তী ও সীমান্তবর্তী, ফোর্স পৌঁছাতে সময় লাগে এমন এলাকাকে বোঝায়। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে সব বাহিনী মোতায়েন করা যায় না। সেখানে পুলিশ ও বিজিবি ছাড়া মোতায়েন করা সম্ভব হয় না। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। অন্য কোন বিষয় পুলিশের আওতায় নেই। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। আইনের বাইরে কারো প্রতি বিরাগ কিংবা ভালোবাসা দেখানোর সুযোগ নেই।
নির্বাচনকালীন আইনশৃংখলার দায়িত্বপালনে পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে নাগরিক সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ডিআইজি। ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


